নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থল এনঘেলাব (বিপ্লব) স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে একটি নতুন বিলবোর্ড উন্মোচন করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিলবোর্ডটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রোববার উন্মোচিত বিলবোর্ডটিতে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। রণতরীর ডেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমান, ছড়িয়ে থাকা মরদেহ ও রক্তের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রক্তের ধারা এমনভাবে দেখানো হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল-সাদা ডোরার সঙ্গে সাদৃশ্য তৈরি করে। এর নিচে লেখা রয়েছে— “If you sow the wind, you will reap the whirlwind” (যদি তুমি ঝড় বপন করো, তবে ঘূর্ণিঝড়ই কাটবে)। এই পদক্ষেপ এমন এক সময় এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন আমরা ইরানকে পর্যবেক্ষণ করছি। বিশাল একটি নৌবহর ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। হয়তো আমাদের ব্যবহার করতে হবে না, দেখা যাক। তিনি আরও দাবি করেন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান হলে তা গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকেও তুচ্ছ মনে হবে। এদিকে শনিবার ইরানের প্রভাবশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ভুল হিসাব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাহিনীটি “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত, আঙুল ট্রিগারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, নতুন করে হামলা চালানো হলে ইরান সবকিছু দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে ইরান যে সংযম দেখিয়েছিল, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪১ হাজারের বেশি মানুষ। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শুরুতে জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতনের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষে রূপ নেয়। এনঘেলাব স্কয়ার সাধারণত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়। জাতীয় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এখানকার বিলবোর্ড ও দেয়ালচিত্র নিয়মিত পরিবর্তন করে থাকে কর্তৃপক্ষ। নতুন এই বিলবোর্ডকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সর্বশেষ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: