—ভাবনার দুয়ারে একটি আধ্যাত্মিক অনুধ্যানমূলক উপাখ্যান (সম্পাদকীয়)
🚪 শুক্রবার ১৬ই মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শীত-কাল; ১০ই শাবান ১৪৪৭ হিজরি (হিজরি - হিজরত পরবর্তী)
হে মুসাফির! ধরণীর পানে তুমি তো কেবলই এক ক্ষণিকের অতিথি—তবে কি ভাবিয়া দেখেছো, সেই সামান্য ক্ষমতার অহংকারে তুমি এমন কোনো অন্যায় করছো না, যা আল্লাহর সাথে তোমার সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তুলছে?
এই পার্থিব দুনিয়ায় ক্ষমতার দম্ভ নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে আমরা এমন অনেক ঘটনা দেখতে পাই, যেখানে মানুষ ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়ে, পেশী শক্তিকে ব্যবহার করে দুর্বলদের ওপর চালায় নির্মম জুলুম। কিন্তু পবিত্র কুরআন আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে—এই সাময়িক শক্তি কখনোই চিরস্থায়ী নয়। সবচেয়ে শক্তিধর নমরুদ ও ফিরআউনকেও যখন আল্লাহ ধ্বংস করলেন, তখন সেটা ছিল তাঁর অপার সামর্থ্য ও অনিবার্য বিচারব্যবস্থার নিদর্শন। পার্থিব ক্ষমতা ও পেশী শক্তির অহংকারে মানুষ যখন বিবেককে বিসর্জন দেয় এবং আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে, তখন তার পরিণতি কী হয়? সাময়িক নীরবতা আল্লাহর ছাড় দেওয়া নয়, বরং চূড়ান্ত হিসাবের অপেক্ষা। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যাওয়া সমাজের প্রতি গভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই সম্পাদকীয়।
মুসাফিরের ভ্রান্ত পদযাত্রা:একটি আধ্যাত্মিক অনুধ্যানমূলক উপাখ্যান
একজন মানুষ এ ধরায় আগমন করে মুসাফিরস্বরূপ, যার চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল—আখিরাত। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার পথে তাঁহার সহযাত্রী স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁহাকে দান করেছেন বিবেক, স্বাধীনচিন্তা এবং চলার নির্দেশনা—অর্থাৎ আল-কুরআনের নূরানী পথনির্দেশ। মানবের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপই তাঁর সৃষ্টিকর্তার অন্তর্দৃষ্টির আওতাধীন।
তবে দুঃখজনকভাবে, এই পথের অনেক পথিক দুনিয়ার সাময়িক ক্ষমতা, পেশীশক্তি ও প্রভাবের মায়াজালে আকৃষ্ট হয়ে আত্মপরিচয় ভুলে যায়। ক্ষমতার আসনে আসীন হইলেই মনে করে সে অপরাজেয়, অমর, অপ্রতিরোধ্য। শুরু হয় দম্ভ, শুরু হয় জুলুমের অরাজকতা, এবং বিচারপ্রতিষ্ঠার নামে ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির স্বেচ্ছাচারিতা। এই অন্ধ অহংকারে মানুষ ভুলে যায়—সে কেবলই মুসাফির, যাত্রাপথের যাত্রী মাত্র।
আরো পড়ুন ছায়ার বাজারে আলোহীন মানুষের মুখোশ, বাড়ছে অমানুষের ভিড়- একটি অস্থির সময়ের সম্পাদকীয়- অব্যক্ত সমাজ, অনুচ্চারিত সত্য, অহংকারের আগুনে মানবতার নিঃশব্দ ক্ষয়
ভুল পথে পথচলা—মুসাফিরের বিভ্রম
একজন সত্যিকারের মুসাফির—এই দুনিয়ার যাত্রী—সর্বদা আল্লাহর ভয়কে হৃদয়ে ধারণ করবেন। তাঁর জীবন হবে সততা, ধৈর্য ও দয়ার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু আজকের সমাজে দেখা যায় বৈপরীত্য। এরূপ অসংখ্য মুসাফিরের অস্তিত্ব, যারা বিশ্বাস করেন—ক্ষমতার জোরে নিপীড়ন, দুর্নীতির মাধ্যমে বিত্তলাভ, কিংবা গরীব-দুর্বলকে পিষে ফেলাও যেন একপ্রকার সাফল্য। তারা হয়তো সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা কিংবা জনমতের চোখ ফাঁকি দিতে পারেন সাময়িকভাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, তারা এক মারাত্মক ভুল গণনায় নিপতিত।
ক্ষমতা ও পেশী শক্তির দম্ভ: ইতিহাস ও বাস্তবতার মিলনবিন্দু
আজকের সমাজেও আমরা এমন বহু নজির দেখি, যেখানে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অর্থ ও ক্ষমতার দম্ভে সাধারণ মানুষের জমি দখল করে নিচ্ছে, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে। কখনো আবার দেখা যায়, সামান্য পারিবারিক বিরোধের কারণে কোনো দিনমজুরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিনের পর দিন হয়রানি করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় দেখা যায়, দুর্বল মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, কিন্তু বিচারের বাণী নিঃশব্দে কাঁদছে অর্থ ও প্রতিপত্তির কাছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর হাদীসে এসেছে— "তোমরা মজলুমের বদ-দোয়াকে ভয় করো, কারণ তার আর আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)। তাই মনে রাখতে হবে, এই দুনিয়ার আদালতে যদি বিচার বন্ধও থাকে, মজলুমের দোয়া কিন্তু সরাসরি পৌঁছে যায় বিচার দিবসের মালিকের দরবারে। অতএব মুসাফির, সাবধান!
সাময়িক নীরবতা: ছাড়, না চূড়ান্ত বিচার অপেক্ষা?
অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন—আল্লাহ কেন সঙ্গে সঙ্গে জালেমদের শাস্তি দেন না?
এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
- তওবার সুযোগ: আল্লাহ চান, মানুষ যেন নিজ ভুল বুঝে ফিরে আসে। তিনি দ্রুত ধ্বংস না করে সময় দেন, যাতে পাপী তওবার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পায়।
- চূড়ান্ত হিসাবের অপেক্ষা: পার্থিব শাস্তির চেয়ে পরকালের শাস্তি অনেক ভয়াবহ। পৃথিবীর সামান্য অপমান হয়তো কোনো পাপের উপযুক্ত প্রতিদান নয়। তাই আল্লাহ অপেক্ষা করেন সেই দিনের জন্য, যেদিন কেউ কোনো সাহায্য পাবে না।
আল্লাহ্র সুবিচার কোন মনুষ্যবিচারের অনুরূপ নহে। আল-কুরআন এবং হাদীস এ বিষয়ে আমাদের এক অতি মৌলিক শিক্ষা দান করে—আল্লাহ্ দেরি করেন, কিন্তু উপেক্ষা করেন না। তিনি সুযোগ দেন, ফেরার দাওয়াত দেন। আর যদি সেই সুযোগে কেউ না ফেরে, তবে তাঁর শাস্তি চূড়ান্ত, নির্দয় ও অনিবার্য।
আল্লাহ বলেন, “যারা সৎপথ প্রাপ্ত হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দেন।” (সূরা আলে ইমরান: ৮৬); এবং “তাদের উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হয়।” (সূরা আলে ইমরান: ৮৭)
এই আয়াতগুলো কেবল আলংকারিক নয়—এগুলো হলো নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা। যাদের অন্তরে দম্ভের পাহাড়, তারা জানুক—এই পাহাড় একদিন ধসে পড়বেই।
আল্লাহ্র বাণী উপলব্দিতে অপারগতা—ইচ্ছাকৃত না দৈবচায়িত?
পৃথিবীর ইতিহাসে বহু ফিরআউন, নামরুদ, কারূন এসেছে; কেউ চিরস্থায়ী হয়নি। সুরা আলে ইমরান-এর ১১ নং আয়াতে স্পষ্ট উচ্চারণে আল্লাহ বলেন: “ফিরআউনের বংশধরগণ ও তাদের পূর্ববর্তীগণ আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল, ফলে আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করেছিলাম। আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।” (৩:১১)
তাহলে প্রশ্ন জাগে—আজকের মুসাফিররা কি ফিরআউনের চেয়েও অধিক শক্তিধর? যদি না হয়, তবে কেন সে আল্লাহ্র এই সতর্কবাণী উপলব্ধি করিতে অপারগ?
মরিচাধরা হৃদয় ও হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরিণতি
মুসাফিরদের হৃদয়ে যে দম্ভ ও অহংকার বাসা বাঁধে, তা একপ্রকার আত্মিক মরিচা হয়ে উঠেছে, যা তাদের অন্তরকে ধীরে ধীরে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। এই অহংকারপূর্ণ মোহরিত হৃদয়ই তাদের আল্লাহর হেদায়েত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন: “আল্লাহ তাদের হৃদয় ও কর্ণদ্বার মোহরিত করে দিয়েছেন; তাদের চোখের উপর রয়েছে আবরণ; আর তাদের জন্য নির্ধারিত আছে মহাশাস্তি।” (সূরা আল-বাকারা: ৭ )
এই আয়াতটি প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় সেই আত্মার, যে বারবার আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে এবং অহংকারে ডুবে গিয়ে নিজেকে সংশোধনের দরজা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। হৃদয় যদি ক্রমাগত পাপের চর্চায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তওবার পরিবর্তে গুনাহর দিকেই ধাবিত হয়, তবে সেই হৃদয় একসময় আলোর স্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে—হেদায়েতের আলো তার ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না।
এই বিষয়ে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের সতর্ক করেছেন: “যখন কোনো মু’মিন পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। যদি সে তাওবা করে, তাহলে অন্তর পরিশুদ্ধ হয়; আর যদি সে পাপ করতেই থাকে, তাহলে সেই কালো দাগটি তার পুরো হৃদয়কে ঢেকে ফেলে।” (তিরমিজি শরীফ, ব্যাখ্যা: সূরা মুতাফফিফীন, আয়াত ১৪)
এই 'কালো দাগ' বা 'মরিচা'—আসলে সেই আত্মিক অসুস্থতা, যা ধীরে ধীরে আল্লাহর পথকে অদৃশ্য করে দেয়। যখন একজন মানুষ অহংকারে এতটাই অন্ধ হয়ে পড়ে যে সে আর তওবা বা সংশোধনের প্রয়োজন অনুভব করে না, তখন তার হৃদয় sealing বা মোহরিত হয়ে যায়। এই sealing-ই তার সর্বনাশের সূচনা।
সুতরাং, এই শিক্ষা আমাদের জন্য অমূল্য: হৃদয়কে অহংকারের মরিচা থেকে রক্ষা করতে হলে তওবার পথে ফিরে আসতে হবে। অহংকার নয়, বিনয় ও আল্লাহভীতি—এই দুই-ই পারে একটি মোহরিত হৃদয়কে আবার আলোর দিকে ফিরিয়ে নিতে। তা না হলে, সেই হৃদয়ের ভাগ্যে নির্ধারিত থাকবে কেবল ‘মহাশাস্তি’।
কে আল্লাহর প্রিয় বান্দা?
এই দুনিয়ার ধন-সম্পদ, মোহ-মায়া ও ক্ষমতা—সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক পরীক্ষার উপকরণ। যিনি এগুলো লাভ করেন, তাঁর দায়িত্ব বেড়ে যায় বহুগুণ। কেননা আল্লাহ যাঁদের ভালোবাসেন, তাঁদের অন্তরে অহংকারের স্থান নেই; তাঁদের পথনির্দেশক হয় আল্লাহভীতি ও আত্মনম্রতা। কারণ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না।” (আলে ইমরান: ৫৭)। পক্ষান্তরে, যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে চান, তারা হবেন এই দুনিয়ার একজন প্রকৃত মুসাফির—আসমান-জমিনের প্রভুর প্রতিনিধি, তাঁর প্রেরিত খলিফা হিসেবে ন্যায়ের পতাকা বহনকারী। একজন সত্যিকারের মুমিন মুসাফির হবেন ধৈর্যশীল, সত্যনিষ্ঠ, আনুগত্যপরায়ণ, দানশীল এবং রাত্রির শেষ ভাগে ক্ষমা প্রার্থনাকারী—যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সূরা আলে ইমরানের ১৭ নম্বর আয়াতে। আল্লাহ যাঁদের ভালোবাসেন, তাঁদের পরিচয় আমরা এখান থেকেই জানতে পারি। কিন্তু যারা অহংকারে অন্ধ হয়ে আল্লাহর বিধান অমান্য করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং অভিশাপ: “তাদের ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ ও সমস্ত মানবজাতির অভিশাপ বর্ষিত হয়।” (সূরা আলে ইমরান: ৮৭)। সুতরাং ক্ষমতার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে, আল্লাহর পথে ফিরে আসাই প্রকৃত মুমিনের গন্তব্য।
ক্ষমতা নয়, দায়িত্বই বড়
ক্ষমতা অর্জনই সাফল্যের চূড়ান্ত মানদণ্ড নয়—বরং সেই ক্ষমতাকে আল্লাহর নির্দেশনা ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করাই হলো প্রকৃত সাফল্য। দম্ভময় জীবনযাত্রার ভিড়ে, একমাত্র আল্লাহভীতি-ই পারে একজন মুসাফিরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। ক্ষমতার মসনদে নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছানোর মাঝেই লুকিয়ে আছে জীবনের সার্থকতা। আল-কুরআনে বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আমাদের প্রতিটি ক্ষমতা ও সামর্থ্যই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ (সূরা আর-রাদ ১৩; সূরা কাসাস ৫৬; সূরা মুদ্দাছ্ছির ৩১; সূরা সাজদাহ ১৩)। কিন্তু যদি মুসাফির সেই অনুগ্রহকে অস্বীকার করে বা ভুলে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, এমনকি অভিসম্পাতও পতিত হতে পারে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়—এই অহংকার, এই দম্ভ, এই ক্ষমতার মোহ কেন? সবই তো আসলে ক্ষণস্থায়ী, এবং আল্লাহর আমানত মাত্র। কারণ আল্লাহর বিচার শাশ্বত, সুবিচারপূর্ণ ও চূড়ান্ত। তাই, ফিরে এসো—আল্লাহর পথে, ন্যায়ের পথে। কেননা সেই পথেই রয়েছে চিরস্থায়ী মুক্তির প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ যেই ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিয়েছেন, তা যদি তাঁর বিধান এবং মানবতার কল্যাণে ব্যবহৃত না হয়, তবে সেই ক্ষমতা একসময় বোঝায় পরিণত হয়। প্রকৃত সফলতা তখনই, যখন ক্ষমতা দায়িত্বশীলতার সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। আর মনে রাখতে হবে—তওবার দরজা আজও খোলা, কিন্তু সময় সীমিত। সময় ফুরিয়ে গেলে, কোনো অনুশোচনাই আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
হে মুসাফির! আত্নিক উন্নয়নে শেষ আহ্বান
তাই হে মুসাফির! আর দেরি নয়। আসমানের দিকে হাত তুলুন এবং হৃদয় ভরে ফরিয়াদ করুন: "হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যখন আমাদের সৎপথে পরিচালিত করেছ, তখন তা পরিত্যাগ করে আমাদের হৃদয়কে বক্র করে দিও না। আর আমাদের প্রতি দান কর তোমার পক্ষ থেকে রহমত। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।”— (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮)
ক্ষমতা স্থায়ী নয়, দম্ভ অন্ধত্ব ডেকে আনে, আর অন্যায়ের পতন এক শ্বাশত নিয়ম। তাই হে মুসাফির, সজাগ হও, ফিরে এসো ন্যায়ের পথে, কেননা সেই পথই চিরস্থায়ী মুক্তির একমাত্র সোপান। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কবুল করুন, আমাদের অন্তরগুলোকে হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন, এবং যেন আমরা তাঁর প্রিয় বান্দা হয়ে এই পথচলা সম্পন্ন করতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে মাফ করুন ও হেদায়েত দান করুন। আমিন।
আমিন।
✍️ –অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)
#ক্ষমতার_দম্ভ #আল্লাহর_ভয় #নাফরমানির_পরিণতি #সামাজিক_অবিচার #বিবেক_ও_নীতি #ইসলাম_ও_সমাজ #মুসাফিরের_পথ #জেনে_অমান্য #বলীয়ানের_জুলুম #আল্লাহর_শাস্তি #আখেরাত #ইসলামে_মানবতা #নীতি_ও_ধর্ম #বিচার_দিবস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: