অধিকার পত্র ডটকম প্রতিবেদক
মূল সংবাদ
ঢাকা: অবশেষে চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি কার্যকর হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
চুক্তির মূল বিনিময় হিসেবে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জানা গেছে, ইরানের পেশ করা ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই শর্তগুলোকে ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে মেনে নিয়েছে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রাসন না করা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া, ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি খোলা ও পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন। ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে সম্মত হয়েছে।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা বসবে বলে দুই পক্ষ জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি না খুললে “পুরো ইরানি সভ্যতা ধ্বংস” করার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধবিরতি ২০২৬ হরমুজ প্রণালি খোলা ইরানের ১০ দফা শর্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: