প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, অধিকার পত্র আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকার পত্র আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শিগগিরই ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি চুক্তি অনুমোদনের জন্য তেহরানের সামনে একাধিক কঠোর শর্ত তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ Strait of Hormuz সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না।
ট্রাম্প আরও জানান, ওমান উপসাগরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে সেটি তার ঘোষিত শর্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
তিনি দাবি করেন, গত বছরের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিচে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং International Atomic Energy Agency-এর সমন্বয়ে মাটি খুঁড়ে বের করে ধ্বংস করা হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, আপাতত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে চুক্তির অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই আপত্তি জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। তাদের দাবি, ট্রাম্প যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন, তার কয়েকটি আলোচনাধীন চুক্তির খসড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে টোল নিষিদ্ধ করার কোনো ধারা খসড়া চুক্তিতে নেই। একইভাবে ইরানের পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস বা অপসারণের বিষয়টিও আলোচ্য নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ দ্রুত ছাড় করা। এই অর্থ মুক্ত না হলে তেহরান পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেবে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচকরা ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ করছেন। এর আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হবে।
চুক্তির খসড়ায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে জলপথে পেতে রাখা সব মাইন অপসারণের কথাও উল্লেখ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সময়ে ইরানও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিয়ে যাচ্ছে।
তেহরান যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা যুদ্ধবিরতি পারমাণবিক চুক্তি হরমুজ প্রণালি ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: