odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 14th April 2026, ১৪th April ২০২৬
মাউশি ও এনসিটিবিতে শীর্ষ পদ শূন্য, স্থবির হয়ে পড়ছে শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রম। শিক্ষা খাতের প্রধান দুই সংস্থায় নেতৃত্ব সংকট ভোগান্তিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা

নেতৃত্বহীন মাউশি: ৬ মাস ধরে নেই নিয়মিত ডিজি, এনসিটিবিতেও স্থবিরতা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৩ April ২০২৬ ২৩:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৩ April ২০২৬ ২৩:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

দেশের শিক্ষা খাতের প্রধান দুই চালিকাশক্তি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। মাউশিতে গত ছয় মাস ধরে কোনো নিয়মিত মহাপরিচালক (ডিজি) নেই। সর্বশেষ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

মাউশিতে অস্থিরতার নতুন মোড়

গত বছরের ১৪ অক্টোবর তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে ওএসডি করার পর থেকেই মাউশিতে নিয়মিত ডিজি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) বি এম আবদুল হান্নান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু গত ৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকেও সরিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে এই আদেশ জানাজানি হওয়ার পর অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই আদেশে ফরিদপুরের সরকারি আইন উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নাজমুল হককে মাউশির নতুন পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিয়মিত ডিজি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাকেই হয়তো নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে মাউশির মতো বিশাল একটি সংস্থার কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি কেবল সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে চলা।

এনসিটিবির চিত্রও একই

শুধু মাউশি নয় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত চেয়ারম্যান নেই এনসিটিবিতে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন কারিকুলাম ও পাঠ্যপুস্তক নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা সংস্থাটিতে দীর্ঘ সময় নিয়মিত চেয়ারম্যান না থাকা শিক্ষা খাতের জন্য বড় সংকট হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়োগে বিলম্বের কারণ ও আশার বাণী

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া এই নেতৃত্ব সংকট নতুন সরকার গঠনের দুই মাস পরেও সমাধান না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে এটি নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার কারণেই কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই মাউশি ও এনসিটিবিতে নিয়মিত প্রধান নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।

কেন এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ?

মাউশি দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থা। সারা দেশে নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এই অধিদপ্তরের আওতাধীন। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক বদলি ও পদোন্নতির বিষয়গুলোও এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়। দীর্ঘদিন নেতৃত্বহীন থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিহীনতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায়।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: