odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 24th May 2026, ২৪th May ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু, গবেষণার পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি

পূর্ণ বৃত্তিসহ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজের সাব্বির

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৪ May ২০২৬ ১৮:১৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৪ May ২০২৬ ১৮:১৩

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, রাত | নিজস্ব প্রতিবেদক

অধিকার পত্র ডেস্ক: ছোটবেলায় নামের আগে ‘ডক্টর’ বসানোর স্বপ্ন দেখতেন মুন্সিগঞ্জের তরুণ সাব্বির আহমেদ। তবে উচ্চমাধ্যমিকের পর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় সেই স্বপ্ন একসময় অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মুন্সিগঞ্জের সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ভর্তি হন তিনি। স্নাতকে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৩৬। সাধারণ ফলাফল ও সীমিত সুযোগ নিয়েও থেমে থাকেননি সাব্বির। অধ্যবসায়, গবেষণা ও আত্মবিশ্বাসের জোরে বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে রসায়নে পূর্ণ বৃত্তিসহ (ফুল ফান্ডেড) পিএইচডি করছেন।

সাব্বির জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি উপলব্ধি করেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গবেষণার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য থেকেই পরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) মাস্টার্সে ভর্তি হন। কুয়েটে ভর্তি হওয়াকেই তিনি জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গবেষণার বিষয়ে তিনি জানান, পাটকাঠি থেকে হাইড্রোজেল তৈরির একটি গবেষণায় কাজ করেছেন, যা ড্রাগ ডেলিভারি ও পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি পাটকাঠি থেকে তৈরি বায়োডিগ্রেডেবল ফিল্ম প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

সাব্বির বলেন, “প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশের দিন মনে হয়েছিল, আমি স্বপ্নের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”

গবেষণায় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রায় ৪০০ জন উপস্থাপকের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। পরে আরও চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনায় অংশ নেন। এসব অভিজ্ঞতাই তাঁকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে সহায়তা করেছে।

নিজ উদ্যোগে বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সাব্বির। কোনো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ই-মেইল পাঠিয়েছেন তিনি। একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হলেও হাল ছাড়েননি।

সাব্বিরের ভাষায়, “হয়তো তিন শতাধিক অধ্যাপককে ই-মেইল করেছি। অনেক সময় ভেঙে পড়েছি। কিন্তু অবার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার পাওয়ার পর সব কষ্ট ভুলে গেছি। সেই মুহূর্তে মা আর আমি দুজনই আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলাম।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কোথায় পড়ছি, সেটি স্বপ্ন পূরণের বাধা হতে পারে না। লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই।”

তরুণদের জন্য সাব্বির আহমেদের এই পথচলা এখন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: