অধিকারপত্র ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তামিলনাড়ুর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় এক জ্যোতিষীকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) পদে নিয়োগ দেওয়ায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। নির্বাচনের আগে তার জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা ওই জ্যোতিষীর নাম রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেল শুধু জ্যোতিষীই নন, তিনি বিজয়ের দল টিভিকের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেখা গেছে।
ভোট গণনার দিন টিভিকে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যেতে শুরু করলে বিজয়কে অভিনন্দন জানাতে প্রথমদিকেই তার বাসভবনে পৌঁছান রাধান পণ্ডিত। এরপরই তাকে ওএসডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই নিয়োগের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিজয়ের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের নেতারাও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন জ্যোতিষীর মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তার পদে কী প্রয়োজন, সেটির ব্যাখ্যা থাকা উচিত।
বিরোধী দল ডিএমকেও এ নিয়োগের সমালোচনা করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রগতিশীল রাজনীতির দাবি করা একটি সরকারের জন্য জ্যোতিষীকে প্রশাসনিক পদে বসানো সাংঘর্ষিক বার্তা দেয়।
তবে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষী ও রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সঙ্গেও রাধান পণ্ডিতের যোগাযোগ ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায় বিজয়ের দল টিভিকে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেস, বাম দল ও আঞ্চলিক কয়েকটি দলের সমর্থনে সরকার গঠন করতে হয়েছে তাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বিজয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন জনসমক্ষে বাড়তি নজরদারিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্যোতিষীকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ তার সরকারের ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: