অধিকারপত্র ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক,
Gazipur-এর কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক চিকিৎসকদের মতে, নিহতদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক Mazharul Haque জানান, নিহতদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই মেয়ে মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ছোট মেয়ে ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। তার মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল বলে জানা গেছে।
ফরেনসিক সূত্র জানায়, স্ত্রী শারমিন খানমকে হত্যার আগে তার হাত ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছিল। এছাড়া হত্যার আগে নিহতদের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানতে বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পাকস্থলীর খাদ্য নমুনা, ঘরে পাওয়া নেশাজাতীয় দ্রব্যের বোতল এবং রান্না করা সেমাই সংগ্রহ করে Criminal Investigation Department (সিআইডি)-এর পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল হাতে পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা বাদী হয়ে তার স্বামী ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) Asaduzzaman। তিনি জানান, অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তারে সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে।
গত ৯ মে সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলার দুটি কক্ষ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা মূলত Gopalganj জেলার বাসিন্দা হলেও জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে বসবাস করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে সবাইকে হত্যার কথা উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ড পারিবারিক কলহ ফোরকান মোল্লা সিআইডি ফরেনসিক শারমিন খানম ময়নাতদন্ত পাঁচ হত্যা কাপাসিয়া গাজীপুর

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: