odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 16th July 2026, ১৬th July ২০২৬

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৬ July ২০২৬ ০৩:৪১

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৬ July ২০২৬ ০৩:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬

 

সংসদে সমাপনী ভাষণে তারেক রহমান বলেন, মতের ভিন্নতা থাকবে, তবে প্রতিহিংসা নয়; দুর্নীতি দমন, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

ঢাকা: দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং বাংলাদেশ কোনোভাবেই তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয়ের মধ্যেই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা প্রয়োজন। গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু তা কখনোই শত্রুতা, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধে রূপ নেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। অতীতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে এ প্রবণতা দমন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষিঋণ মওকুফ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা। তিনি বলেন, এসব কোনো অনুগ্রহ নয়; বরং নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঋণনির্ভর নয়, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে।
জুলাই সনদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও তাঁবেদারি রাজনীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া বাজেট অধিবেশনে দায়িত্ব পালনকারী সংসদ সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের সমপরিমাণ বেতন প্রদানের জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান সংসদ নেতা।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুন শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন বুধবার সমাপ্ত হয়।
কী-ওয়ার্ড: তারেক রহমান, জাতীয় সংসদ, জাতীয় ঐক্য, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি দমন, বাজেট অধিবেশন, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, জুলাই সনদ, বাংলাদেশ রাজনীতি
হ্যাশট্যাগ:
#তারেক_রহমান #জাতীয়_সংসদ #জাতীয়_ঐক্য #বাংলাদেশ #দুর্নীতি_দমন #বাজেট_২০২৬ #রাজনীতি #অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: