odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 15th July 2026, ১৫th July ২০২৬
গৃহযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে পুনর্গঠনের পথে সিরিয়া, তবুও নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি

আসাদের পতনের এক বছর: নতুন সিরিয়া গড়ার আশা, কিন্তু রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ May ২০২৬ ২১:২৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ May ২০২৬ ২১:২৭

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের এক বছর পূর্ণ করেছে সিরিয়া। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ, ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশটি এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজধানী দামেস্ক থেকে আলেপ্পো পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে মানুষ নতুন ভবিষ্যতের আশা করলেও এখনো কাটেনি ভয়, অনিশ্চয়তা ও বিভক্তির সংকট।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় ক্ষমতায় আসে নতুন প্রশাসন। সেই পরিবর্তনের এক বছর পূর্তিতে দেশজুড়ে নানা আয়োজন হলেও বাস্তব চিত্র এখনো জটিল।

রাজধানী দামেস্কে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে ‘নতুন সিরিয়া’র স্বপ্ন। বিভিন্ন শহরে উড়ানো হয়েছে বিপ্লবী পতাকা, হয়েছে আতশবাজি ও সমাবেশ। অনেকের মতে, বহু বছরের দমন-পীড়নের অবসান হয়েছে।

তবে যুদ্ধের ক্ষত এখনো স্পষ্ট দেশটির সর্বত্র। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, ভেঙে পড়া অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, লাখো সিরীয় এখনো শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। যদিও গত এক বছরে কিছু পরিবার নিজ শহরে ফিরে এসেছে, তবুও নিরাপত্তা ও জীবিকার অভাবে অনেকে এখনো ফিরতে পারছেন না।

নতুন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ অভিযোগ করেছেন, আসাদ-পরবর্তী সময়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অন্যদিকে নতুন প্রশাসনের সমর্থকরা বলছেন, দেশকে স্থিতিশীল করতে সময় প্রয়োজন।

এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহনব্যবস্থা এখনো অনেক এলাকায় অচল বা সীমিত।

আলেপ্পোর এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা শুধু স্বাভাবিক জীবন চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসাদের পতন সিরিয়ার ইতিহাসে বড় পরিবর্তন হলেও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনো অনেক দূরের পথ।

তারা বলছেন, রাজনৈতিক সমঝোতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশটি আবারও অস্থিরতার দিকে যেতে পারে।

তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা দেখা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও অনেকে ছোট ব্যবসা শুরু করছেন, কেউ বাড়ি পুনর্নির্মাণ করছেন, আবার কেউ সন্তানদের স্কুলে ফেরানোর চেষ্টা করছেন।

এক বছর পর সিরিয়া এখন দাঁড়িয়ে আছে এক সন্ধিক্ষণে—একদিকে পুনর্গঠনের আশা, অন্যদিকে দীর্ঘ যুদ্ধের রেখে যাওয়া গভীর ক্ষ

 

সূত্র: আল জাজিরা

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: