odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 14th June 2026, ১৪th June ২০২৬
ইতিহাসের প্রতি অবিচার দূর করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গবেষণার তাগিদ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সাংবাদিকদের লড়াইয়ে সমর্থনের আশ্বাস

জিয়াউর রহমানের কর্ম ও আদর্শ নিয়ে উচ্চমানের গবেষণার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৪ June ২০২৬ ১৬:১৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৪ June ২০২৬ ১৬:১৮

অধিকারপত্র ডটকম 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমুখী রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নিয়ে আরও বস্তুনিষ্ঠ ও উচ্চমানের গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ইতিহাসের প্রতি যে অবিচার ও কৃপণতা করা হয়েছে, তা দূর করতে শহীদ জিয়ার জীবন, চিন্তাধারা ও কর্ম নিয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহর লেখা বই ছাড়া জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তেমন তথ্যসমৃদ্ধ গবেষণালব্ধ কাজ চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বড় ধরনের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমে দেশের মানুষের স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেন বলেও মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পায় এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উদার গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হয়।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি গ্রামাঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এক সফরে জিয়াউর রহমান হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে এক দরিদ্র নারীর ঘরে গিয়ে পানি পান করেছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে জিয়াউর রহমান নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচি এবং বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে তাঁর অবদান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অতীতে গণমাধ্যমের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের চাটুকারিতায় লিপ্ত ছিল। বর্তমানে মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সাংবাদিকদের যে সংগ্রাম চলছে, তাতে সরকার ও দেশপ্রেমিক জনগণের সমর্থন থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজে সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।

বক্তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং দেশগঠনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: