odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 7th August 2026, ৭th August ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়কে 'দুর্ভাগ্যজনক' আখ্যা দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ এবং 'বার্থ ট্যুরিজম' ঠেকাতে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ধাক্কা কাটিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৭ August ২০২৬ ১৭:৩০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৭ August ২০২৬ ১৭:৩০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright citizenship) সংক্রান্ত বিধানকে সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পূর্ববর্তী একটি অভিবাসন আদেশ খারিজ করে দিয়েছিল। ওই রায়কে খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোতে স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প বলেন, এটি একটি কাছাকাছি ব্যবধানের, তবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক একটি সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের এই ধারাটি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে—গৃহযুদ্ধের ঠিক পরপরই দাসদের শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কী ঘটছে?

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়। এর কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন বিদেশি কূটনীতিক বা যুদ্ধরত শত্রু বাহিনীর সদস্যদের সন্তান।

নতুন নির্বাহী আদেশে যা রয়েছে                           

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম রূপকার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার জানান, নতুন আদেশ দুটি তুলনামূলক সংকীর্ণ পরিসরে আনা হয়েছে, যাতে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থেকে লক্ষ্য অর্জন করা যায়।

১. প্রথম নির্বাহী আদেশ (সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও বিদেশি লবিস্টদের ক্ষেত্রে): এই আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য বা ‘এলিয়েন শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান, বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিং বা কার্যক্রম চালানো ব্যক্তি এবং বিদেশি সরকারের কিছু সরকারি ও কনস্যুলার কর্মচারীর সন্তান। এছাড়া বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে (যেমন সারোগেসি) নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রচেষ্টা কিংবা যেসব অঞ্চলে ফেডারেল আইনে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয় না, সেসব এলাকার জন্মও এই আদেশের আওতায় পড়বে।

২. দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশ ('বার্থ ট্যুরিজম' নিষিদ্ধকরণ): এই আদেশটি সরাসরি তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে। সাধারণত বিদেশি নাগরিকরা পর্যটক বা ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন এবং দেশটিতে সন্তান প্রসব করেন, যাতে তাদের সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। এই আদেশের ফলে এই উদ্দেশ্যে ভিসা দেওয়া এবং এ ধরনের ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানবিক ভিত্তি বা জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া বিশ্বের কেউ আর এই উদ্দেশ্যে ভিসা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

দেশজুড়ে আইনি চ্যালেঞ্জের শঙ্কা

যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে যে, নতুন এই নির্বাহী আদেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পরিপন্থী নয়, তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এগুলো আবারও আদালতে তীব্র আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। এ ধরনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের অর্থ পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং এটিও পূর্বের আদেশের মতো আইনি বাধার মুখে পড়বে। 

উল্লেখ্য, জন্ম পর্যটন রোধে ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে একটি ফেডারেল রেগুলেশন চালু করা হয়েছিল, যা বর্তমান আদেশের মাধ্যমে আরও কঠোর করা হলো।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: