odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 16th August 2026, ১৬th August ২০২৬
ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনলাইন প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই না করেই ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠনের অভিযোগ; বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষকতার মর্যাদা ও একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের

প্রেস রিলিজ: ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

Odhikarpatra News Desk | প্রকাশিত: ১৬ August ২০২৬ ১৯:০২

Odhikarpatra News Desk
প্রকাশিত: ১৬ August ২০২৬ ১৯:০২

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৬ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কথিত গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, যাচাইহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদকে ভিত্তি করে শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ ও অনলাইন আলোচনাকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামান এ পরিস্থিতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন, সৃজনশীলতা ও গবেষণার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকও অভিযোগগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়া শিক্ষকদের হয়রানি বা শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত নয়। প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও শিক্ষকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত; উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা অধিকারপত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে স্মারক নংBPUPTA/2026/74, তারিখ১৬ আগস্ট ২০২৬ অনুযায়ী প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলমান বা প্রস্তাবিত তদন্ত এবং শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অপ্রতিরোধ্য—এই স্লোগান ধারণকারী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনটির দাবি, প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে অসংখ্য ভুল, অসংগতি ও মনগড়া তথ্য রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে যথাযথ তথ্য-উপাত্তসহ ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

তথ্য যাচাই না করেই কমিটি গঠনের অভিযোগ

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষককে ঘিরে তদন্ত কমিটি বা কথিত ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মতাদর্শগত বিরোধ কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের উদ্যোগকে ‘অগণতান্ত্রিক, প্রতিহিংসামূলক ও ন্যায়বিচারবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ, তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

‘সংবাদ প্রতিবেদন চূড়ান্ত সত্য হতে পারে না’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ভিত্তিহীন সংবাদকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষক বা শিক্ষকসমাজকে রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা কথিত কোনো ‘গোপন তৎপরতার’ সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করা ন্যায়বিচার, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী।

সংগঠনটির মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হলেই তা প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাই, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

সাংবিধানিক অধিকার ও শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নিজেদের একটি অরাজনৈতিক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেসব অন্যায়, বৈষম্য, হেনস্তা ও একাডেমিক নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম প্রকাশ্য, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। ফলে শিক্ষকদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ‘গোপন তৎপরতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতাবিবর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রাজনৈতিক পরিচয় শাস্তির ভিত্তি হতে পারে না

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষক কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, অতীতে তিনি কী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন অথবা কারও সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মতপার্থক্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, যুক্তিবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষকদের ভয় দেখানো, অপমান করা, চাকরির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শাস্তির মুখোমুখি করা হলে শুধু শিক্ষকসমাজ নয়—শিক্ষার্থী, গবেষণা এবং সামগ্রিক উচ্চশিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ছয় দফা দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ ছয়টি দাবি জানিয়েছে—

  • ১. রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মতাদর্শগত বিবেচনা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরিচালিত সব তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
  • ২. মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি বা কথিত ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ বাতিল করতে হবে।
  • ৩. ভিত্তিহীন সংবাদ বা অসমর্থিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে হয়রানি, অপমান কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিরত থাকতে হবে।
  • ৪. কোনো শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ, অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত মতপার্থক্যকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি করা যাবে না।
  • ৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষকতার মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
  • ৬. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি, হয়রানি, প্রশাসনিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ বন্ধ করে প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিতে হবে।

দেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী, বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষক-গবেষক এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক সম্প্রদায়কে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বলা হয়েছে, শিক্ষাঙ্গনে নিপীড়নের স্টিমরোলার রুখে দাঁড়াও। জাগো বিবেক, জাগো বাংলাদেশ। বাঁচাও শিক্ষা, বাঁচাও দেশ।

সভাপতির বক্তব্য: ‘স্বাধীন মতপ্রকাশ সংকুচিত হলে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হয়’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঘিরে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষকদের গভীরভাবে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন করেছে।

অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা এবং নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শিক বিশ্বাস ধারণের অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩- বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা শিক্ষকদের স্বাধীনতার যে ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ধরনের উদ্যোগ তার চেতনাকে ক্ষুন্ন করছে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে যুক্তির পথ আটকে দেওয়া হয়, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করা যায় না এবং ভিন্নমতকে সন্দেহ কিংবা শাস্তির কারণ হিসেবে দেখা হয়সেখানে সৃজনশীলতা উদ্ভাবন বিকশিত হতে পারে না। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণার গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

বিষয়টিকে দেশের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি অস্বস্তিকর অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয় বা আনুগত্যনির্ভর পরিবেশ সৃষ্টি হলে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে পাঠদান, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারাবেন। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী, গবেষণা, জ্ঞান উৎপাদন এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের ওপর পড়বে।

তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত না করে কোনো প্রশাসনিক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার আহ্বান জানান।

সংবাদ-ভাষ্য: প্রশ্নটি শুধু ৪০৪ শিক্ষকের নয়, উচ্চশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভবিষ্যতেরও

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কেবল ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বা পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন, ন্যায়সংগত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

কোনো সংবাদ প্রতিবেদন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগ উত্থাপনের সূত্র হতে পারে; কিন্তু সেটি নিজেই অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধানের প্রয়োজন দেখা দিলে সেই অনুসন্ধান হতে হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণনির্ভর। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করা, তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা, তাঁর বক্তব্য শোনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ।

একইভাবে রাজনৈতিক বা আদর্শিক পরিচয় এবং সুনির্দিষ্ট পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষক নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শন বা আদর্শে বিশ্বাস করেন—শুধু এ কারণে তাঁকে রাষ্ট্রবিরোধী বা গোপন তৎপরতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবাধিকারগত প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে একাডেমিক স্বাধীনতাও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দায়মুক্তি নয়; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই যথাযথ আইন ও বিধি অনুসরণ করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা যেতে পারে। মূল প্রশ্ন হলো—প্রক্রিয়াটি প্রমাণ, ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না।

বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর, যেখানে প্রশ্ন করা, প্রতিষ্ঠিত ধারণার সমালোচনা করা, ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক শর্ত। শিক্ষকরা যদি মতপ্রকাশের কারণে প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া, হয়রানি বা চাকরিগত অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণায় আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমন পরিবেশে মুক্ত বিতর্ক দুর্বল হয় এবং সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়ে।

অতএব, প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট বক্তব্যও প্রয়োজন। তদন্ত কমিটি গঠিত হয়ে থাকলে তার আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, কার্যপরিধি, অভিযোগের প্রকৃতি এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে—প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক আনুগত্যের বিবেচনা পরিহার করে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তির উত্তর যুক্তি দিয়েই দিতে হয়; প্রশাসনিক চাপ, ভয় কিংবা মতাদর্শগত দমন দিয়ে নয়। দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ও ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভয়মুক্ত জ্ঞানচর্চা, দায়িত্বশীল মতপ্রকাশ এবং ন্যায়সংগত প্রশাসনের ক্ষেত্র হিসেবেই সংরক্ষণ করতে হবে।

সম্পাদকীয় ডিসক্লেইমার

এই সংবাদটি বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্মারক নংBPUPTA/2026/74, তারিখ১৬ আগস্ট ২০২৬ অনুযায়ী প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং সংগঠনটির সভাপতির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদে উল্লিখিত অভিযোগ, দাবি, মতামত বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং বক্তব্য প্রদানকারীর নিজস্ব। অধিকারপত্র ডটকম (Odhikarpatra.com) এসব অভিযোগ বা দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি এবং সেগুলোর দায়ও গ্রহণ করে না। সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ ব্যাখ্যা, প্রতিবাদ বা ভিন্ন বক্তব্য প্রদান করলে সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলকে পুনরায় সক্রিয় করার কথিত গোপন তৎপরতায় দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক যুক্ত—এমন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অধিকারপত্র এসব অভিযোগ, তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের পরিচয় কিংবা কথিত তৎপরতার পক্ষে কোনো স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ পায়নি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধিকারপত্রকে বলেন, আলোচিত ৪০৪ শিক্ষক এবং বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি বড় অংশই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচির প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন এবং দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নিজেদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষার দাবিতে পরিচালিত সেই আন্দোলন দাবী মেনে নিলে আগস্টের শুরুতে প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযোগটিকে অসংগত ও হাস্যকর হিসেবে বর্ণনা করে ওই শিক্ষক বলেন, যাঁরা শেখ হাসিনার সরকারের সময়েই নিজেদের অধিকার পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলন করেছেন, তাঁরা হঠাৎ কীভাবে এতটা ক্ষমতাশালী হয়ে গেলেন যে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক শক্তি আন্তর্জাতিক বাস্তবতা অতিক্রম করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবেন? তাঁরা যদি সত্যিই তা করতে সক্ষম হন, তাহলে তাঁদের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নয়,অতিমানব বলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এত দিন জানতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের হাতে খলমের শক্তিও নাই, এমনকি বন্দুকের শক্তি নেই; তাঁদের শক্তি জ্ঞান, যুক্তি, গবেষণা পড়াশুনায় শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরই তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র। কিন্তু আলোচিত সংবাদে শিক্ষকদের এমন এক রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না।

এত ক্ষমতাবান হওয়ার খবরে কিছুটা গর্বই হচ্ছেতরুণ শিক্ষকের কৌতুক

আলোচনার একপর্যায়ে সদ্য বিদেশ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে ফেরা একজন তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কৌতুক ও ব্যঙ্গের সুরে বলেন, সংবাদটি পড়ে আমরা কিছুটাগর্বিত হয়েছিঅন্তত মনে হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেরুদণ্ড ক্ষমতা রয়েছে বলে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে! অথচ ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আমরা ধারাবাহিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, সভা-সমাবেশ আন্দোলন করেও তৎকালীন সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার সুযোগ পাইনি।

তিনি বলেন, তখন এমন কথাও শুনেছিলাম—‘মাস্টাররা আগে ক্লান্ত হোক।সেইমাস্টাররা যদি আজ এতটা ক্ষমতাশালী হয়ে থাকেন যে তাঁরা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারেন, তাহলে সংবাদটি আমাদের জন্য বিস্ময়কর বৈকি। অভিযোগটি যতই অবাস্তব মনে হোক, শিক্ষকদের হঠাৎ এমন প্রবল ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি আপাতত কৌতুক হিসেবেই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।

তবে উভয় শিক্ষকই বলেন, বিষয়টি কেবল হাস্যরসের নয়। কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে কথিত গোপন রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও চাকরিগত অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলে প্রচলিত আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে স্বচ্ছ তদন্ত হতে পারে; কিন্তু সংবাদ প্রতিবেদন বা রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

‘আদর্শিক আলোচনা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লাল, নীল, সাদা ও গোলাপিসহ বিভিন্ন নামে শিক্ষক সংগঠন বা প্যানেল রয়েছে। এগুলো সাধারণত কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক অঙ্গসংগঠন নয়; বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আদর্শ ধারণকারী শিক্ষকদের আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, একই বা কাছাকাছি আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে আলোচনা করতেই পারেন। আইন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধানের সীমার মধ্যে থেকে আলোচনা করা তাঁদের মতপ্রকাশের অধিকার একাডেমিক স্বাধীনতার অংশ। শুধু কোনো অনলাইন আলোচনায় অংশ নেওয়ার কারণে সেটিকে রাষ্ট্রবিরোধী বা গোপন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা যৌক্তিক নয়।

কেবল অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে একজন দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলকে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব—এমন ধারণাকে ‘অবাস্তব ও অবান্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

ওই শিক্ষক বলেন, ২০২৪ সালের জুন জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা নিজেদের অধিকার এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষার দাবিতে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করেছিলেন। বর্তমানে যাঁরা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, যাঁরা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন এবং যাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছেতাঁদের অনেকেই তখন একই দাবিতে একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলেন।

পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হঠাৎ কী এমন ঘটল যে একই আন্দোলনের সহযাত্রীদের একটি অংশ প্রশাসনিক ক্ষমতা পাওয়ার পর অন্য অংশকে সন্দেহের চোখে দেখছে? এক পক্ষ কোনোআলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপপেয়েছে কি না, আমরা জানি না। তবে রাজনৈতিক প্রশাসনিক অবস্থান বদলের সঙ্গে সঙ্গে সহকর্মীদের অধিকার পরিচয় সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অশনিসংকেত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মতাদর্শগত বিভাজনকে শাস্তি, হয়রানি কিংবা প্রতিহিংসার ভিত্তিতে পরিণত করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে মেধাবী তরুণেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশার প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাবেন। শিক্ষকরা যদি স্বাধীনভাবে চিন্তা, আলোচনা মতপ্রকাশ করতে না পারেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং সামগ্রিক শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, একাডেমিক স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের অধিকার কোনো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দায়মুক্তি দেয় না। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান অনুসারে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়সংগত তদন্ত হতে পারে। কিন্তু আদর্শিক পরিচয়, অনলাইন আলোচনায় অংশগ্রহণ কিংবা সংবাদে নাম প্রকাশিত হওয়াকে অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

সম্পাদকীয় দ্রষ্টব্য:

এই অংশে উল্লিখিত ৪০৪ ও ৯২ জন শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতার দাবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভাষ্য। অভিযোগগুলোর সত্যতা অধিকারপত্র স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের বক্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও মতামত; ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যগুলোকে কোনো বাস্তব ক্ষমতা বা কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

- বিশেষ প্রিতিবেদক (প্রেস বিজ্ঞপ্তির আলোকে)

#প্রেস_রিলিজ #প্রেস_বিজ্ঞপ্তি #বাংলাদেশ_পাবলিক_বিশ্ববিদ্যালয়_প্রগতিশীল_শিক্ষক_সমাজ #পাবলিক_বিশ্ববিদ্যালয় #বিশ্ববিদ্যালয়_শিক্ষক #৪০৪_শিক্ষক #২২_বিশ্ববিদ্যালয় #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #একাডেমিক_স্বাধীনতা #মতপ্রকাশের_স্বাধীনতা #বিশ্ববিদ্যালয়ের_স্বায়ত্তশাসন #শিক্ষকের_মর্যাদা #শিক্ষক_নিপীড়ন_বন্ধ_হোক #ন্যায়বিচার #স্বচ্ছ_তদন্ত #রাজনৈতিক_প্রতিহিংসা #উচ্চশিক্ষা #মুক্তচিন্তা #গবেষণা_ও_উদ্ভাবন #শিক্ষাঙ্গন #শিক্ষার_অধিকার #বাংলাদেশ #অধিকারপত্র #PressRelease #UniversityTeachers #PublicUniversities #AcademicFreedom #FreedomOfExpression #UniversityAutonomy #TeachersRights #HigherEducation #DueProcess #FairInvestigation #InstitutionalFreedom #JusticeForTeachers #BangladeshUniversities #Odhikarpatra



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: