সংসদ প্রতিনিধি | অধিকার পত্র ডটকম
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ধারা অনুযায়ী ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে শেয়ারধারী থাকা ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে আবার ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বর্তমান আইনের এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা ওই ব্যাংকের শেয়ারধারী ছিলেন, তারা পরবর্তীতে ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ ধরনের সুযোগ দিতে পারে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করলেও সেখানে ১৮(ক) ধারা ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারে আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন করে আইনে অনুমোদন দেওয়ার সময় ধারাটি যুক্ত করা হয়।
ধারাটিতে পুরোনো ও বিতর্কিত পরিচালকদের আবার ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিষয় সামনে আসায় এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এখন ধারাটি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইন কার্যকর হওয়ার পর ধারাটির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত আবেদন করেনি। এ কারণে ধারাটি বিলুপ্ত করা সমীচীন।
উল্লেখ্য, পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
জামায়াতের সংসদ সদস্যের বেসরকারি বিল নাকচ
এদিকে সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইনের সংশোধনী আনতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানের আনা একটি বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের অনুমতি পায়নি।
নাজিবুর রহমান বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাইলে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং বিলটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বিলটি প্রত্যাহারে সম্মত হননি।
পরে বিষয়টি ভোটে দেওয়া হলে বিলটি উত্থাপনের বিপক্ষে ‘না’ ভোট জয়ী হয়। ফলে নাজিবুর রহমান তাঁর বেসরকারি বিলটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি পাননি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: