অধিকার পত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেক্স
রাশিয়ার ডিজেল ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ও জ্বালানির দাম বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ারল্যান্ডে সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কির উচিত রাশিয়ার ডিজেল অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করা। তার ভাষ্য, রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি উৎপাদনব্যবস্থায় হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করছে।
রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকটের খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের বক্তব্য, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্য। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার তেলশিল্প দেশটির যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়ন করে এবং সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহেও ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের এসব হামলার নিন্দা করে আসছে।
ডিজেলের দাম কেন বাড়ছে?
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ডিজেলের দামের ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) মাসিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতও বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায়
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬.০৬ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল প্রায় ৩.৭১ ডলার।
ডিজেল পরিবহন খাতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি হওয়ায় এর দাম বাড়লে ট্রাক, জাহাজ ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব বিভিন্ন পণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপও রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন না।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক ডিজেল সংকটের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহের বিঘ্ন, সমুদ্রপথে পরিবহন ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: