odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 2nd November 2026, ২nd November ২০২৬
গাজা যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ‘নাজা’ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে ইসরায়েল। নির্মাতাদের অভিযোগ ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক।

গাজা নিয়ে ‘নাজা’ চলচ্চিত্রে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ, তদন্তে ইসরায়েল

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৫ September ২০২৬ ০৫:৫১

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৫ September ২০২৬ ০৫:৫১

অধিকার পত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেক্স

গাজা যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA)-এর নির্মাতা ও চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তারা চলচ্চিত্রটিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বলে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রটি ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল শোর পরিচালিত ‘নাজা’ চলচ্চিত্রে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বেনামি সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে দাবি করা হয়েছে, গাজায় সামরিক হামলার কিছু সিদ্ধান্তে বেসামরিক মানুষের সম্ভাব্য মৃত্যুর বিষয়টি আগে থেকেই হিসাবের মধ্যে রাখা হতো।

‘নাজা’ নামের অর্থ কী?

চলচ্চিত্রটির নাম NAZA ইসরায়েলি সামরিক পরিভাষার একটি শব্দ থেকে এসেছে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। এতে কোনো হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা হিসাব করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নির্মাতাদের দাবি, গাজায় সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি কীভাবে যুক্ত ছিল, সেটিই তারা অনুসন্ধান করেছেন।

চলচ্চিত্রে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাদের মুখ ও কণ্ঠ পরিবর্তন করে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্মাতারা প্রায় তিন বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইসরায়েলের অভিযোগ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলচ্চিত্রটিকে ‘উসকানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়তে পারে বলে অভিযোগ করেছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও চলচ্চিত্রটির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, চলচ্চিত্রটি এমন কিছু বেনামি সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে যাদের পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও বলেছে, গাজায় হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও অনুমোদনের সিদ্ধান্ত মানুষই নেয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এসব সিদ্ধান্ত নেয় না। তাদের দাবি, সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধের আইন মেনে পরিচালিত হয় এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত

‘নাজা’ ২০২৬ সালের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করে। প্রদর্শনীর পর চলচ্চিত্রটি দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের করতালি পায়।

চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পেছনে এর আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার তথ্যও রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান, +972 ম্যাগাজিন ও স্থানীয় কল-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন বিষয় নির্মাণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

চলচ্চিত্রটি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হলেও নির্মাতাদের বক্তব্য, গাজা যুদ্ধের সময় সামরিক সিদ্ধান্ত ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা ও জবাবদিহি প্রয়োজন।

সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান