মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল পাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: প্রধানমন্ত্রী
অধিকার সংযুক্ত নিউজ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করা হলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, এতে দেশ ও দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
মেধাবীদের উৎসাহিত ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অর্জিত পুরস্কার শুধু বিজয়ীদের নয়, বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা দেশের ভবিষ্যৎ। তারা যোগ্যতা ও মেধার মাধ্যমে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার স্বীকৃতি দেওয়ার নীতি বর্তমান সরকারের রয়েছে।
সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের কয়েকজন শিক্ষক তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী জানালে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের পাশাপাশি দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, তবে লক্ষ্য একই—দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সবাই ভালো ও শান্তিতে থাকতে পারে এবং মানুষ মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে।
সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ও দেশের জন্য কাজ করতে চান এবং সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে বিজয়ীরা পুরস্কার অর্জন করেছেন, তাঁদের কণ্ঠে সেই সূরার আয়াত শোনেন।
সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
