odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 19th September 2026, ১৯th September ২০২৬
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের রাজনীতি, অতিথি হলেন উপাচার্য নিজেই!

শাবিপ্রবি শাহপরাণ হলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রদলের কর্মসূচি: উপস্থিত উপাচার্য

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৯ September ২০২৬ ০৫:০০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৯ September ২০২৬ ০৫:০০

প্রতিবেদন তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধিকারপত্র ডটকম  শাবিপ্রবি প্রতিবেদক

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং প্রক্টর অফিসের লিখিত অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে হলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদলের একাংশ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়ম-কানুনকে তোয়াক্কা না করে সেই বিতর্কিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন স্বয়ং উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলের টিভি রুমে 'শহীদ জিয়া সাপ্তাহিক পাঠচক্র' শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ও আফফানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপাচার্য ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে রাজনীতির ওপর থেকে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। নতুন শর্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রক্টরের অনুমোদন সাপেক্ষে কল্যাণমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ থাকলেও সব ধরনের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলে সভা-মিছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা হয়। কেবল শাকসু নির্বাচনের প্যানেল পরিচিতিমূলক আয়োজন হল প্রশাসনের অনুমতিতে করার নিয়ম ছিল।

হলের মতো সংবেদনশীল স্থানে রাজনীতি ও নিয়মভঙ্গের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সোহাগ দাবি করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে রাজনৈতিক চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয় এবং নিয়ম মেনে প্রক্টরকে জানানো হয়েছিল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান জানান, সুস্থ চর্চা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে এমন কল্যাণকর আয়োজন হতেই পারে।

পুরো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব এড়ানোর চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান জানান, প্রক্টর অফিস থেকে কর্মসূচির কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং হলের অভ্যন্তরের বিষয় হওয়ায় এটি প্রভোস্টের দেখার দায়িত্ব। অন্যদিকে শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান হলের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি, কেবল মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। এমনকি উপাচার্য স্বয়ং উপস্থিত থাকায় তিনি আর হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন মনে করেননি।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হলে রাজনীতি করা এবং তাতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের অংশগ্রহণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে হলের ভেতর ছাত্রদলের রাজনীতি, অতিথি হলেন উপাচার্য নিজেই

#sust #shahjalaluniversity #suststudentpolitics #shahparanhall #adhikarpatra #odhikarpatra #bangladeshnews #campusnews