অনলাইন ডেক্স প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ ও 'সর্বাত্মক শাটডাউন' কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ রেখে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন তারা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে দুপুর সাড়ে ১১টা থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর ও সর্বাত্মক শাটডাউন আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, "উপাচার্য স্যারকে হুট করে অপসারণের প্রতিবাদে আমাদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলছে। সব শিক্ষার্থী এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। চুয়েটে সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্তব্ধ করতে সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"
এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেও ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও। শিক্ষার্থীদের অচলাবস্থার কারণে ক্যাম্পাসের কোনো বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না ফেরায় একাডেমিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার সূত্রপাত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ গত ২১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
কোনো যৌক্তিক বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় একজন জনপ্রিয় উপাচার্যকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাতেই স্বাধীনতা চত্বর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের যৌথ বিক্ষোভ মিছিল বের হয় এবং মধ্যরাতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকালেও ক্যাম্পাসের মূল গেটে তালা দিয়ে অবস্থান নেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এনে তাদের আস্থাজনিত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাই অন্যায়ভাবে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে তাকে আগের পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না।
(দৈনিক অধিকারপত্র / চট্টগ্রাম ডেস্ক)
