odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 30th September 2026, ৩০th September ২০২৬
যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ালে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ; তিন বিমানবন্দর প্রকল্পে তদন্ত

উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ September ২০২৬ ২৩:৩৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ September ২০২৬ ২৩:৩৮

অধিকারপত্র ডটকম: জাতীয় ডেক্স :

অধিকারপত্র বিশেষ প্রতিনিধি :

উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) পরামর্শক খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রকল্পের মেয়াদ যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাড়ানো যাবে না বলে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে এর জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গুরুত্ব

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিদ্যমান সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো যায়।’

তিন বিমানবন্দর প্রকল্পে তদন্তের নির্দেশ

যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।

প্রতিবেদনগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

রংপুরে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অবকাঠামো প্রকল্প

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল তদারকি জোরদারে অটোমেশন উদ্যোগ

ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগ সমন্বিত করার কাজ চলছে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।

এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল সিস্টেমগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

এ উদ্যোগ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরও জোরদার করতেও সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

 

 

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ও সময় ব্যবস্থাপনায় কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিপিপিতে পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

#তারেকরহমান #উন্নয়নপ্রকল্প #একনেক #পরিকল্পনা #ডিপিপি #বাংলাদেশ #অর্থনীতি #উন্নয়ন#অধিকারপত্র #odhikarpatra