অধিকারপত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেক্স.
বিস্তারিত সংবাদ
গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় হাসপাতাল ও স্কুলে হামলার মতো ঘটনাগুলোর কোনো ন্যায্যতা নেই।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রচারিত ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলা একটি ‘গণহত্যা’ ছিল এবং এর নিন্দা হওয়া উচিত। ওই হামলার জন্য যারা দায়ী, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।
তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসের ওই হামলার জবাব হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা হয়েছে। যেসব যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, কোনো কিছুই এ ঘটনাগুলোকে ন্যায্যতা দেয় না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির অবস্থাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বা দখলকৃত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে চলাচলের সুযোগও সীমিত।
শেখ মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো ইসরায়েল পূরণ করছে না। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় যে ইসরায়েলের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই কাতারের মধ্যস্থতার উদ্যোগ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ
সাক্ষাৎকারে ২০২৫ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের হামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা যখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য দোহায় অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালায়।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যস্থতা ও আলোচনার চেষ্টা চালানোর সময় কাতার আক্রান্ত হওয়া ছিল অগ্রহণযোগ্য। তাঁর মতে, কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশে হামলা চালানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক নজির তৈরি করে।
তবে এসব বক্তব্য কাতারের প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার কথা কাতারের
যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানান শেখ মোহাম্মদ। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা সহজ নয়; তবে তাঁর বিশ্বাস, বন্ধ দরজার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনা চালানোই অগ্রগতির সবচেয়ে কার্যকর পথগুলোর একটি।
তিনি বলেন, কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষকেই সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানে তিনটি বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এগুলো হলো—ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে সমঝোতা, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানকে নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সংস্কার।
শেখ মোহাম্মদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর সংস্কারের জন্য ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (GCC) দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপ প্রয়োজন। পাশাপাশি একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, পারস্পরিক আগ্রাসন পরিহার এবং জ্বালানি, অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
