odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থানের অভিযোগ; ছয় অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি দাবি অধ্যাপক জিনাত হুদার, তদন্ত করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত ট্রাইব্যুনাল

ঢাবির অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে ট্রাইব্যুনাল গঠন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২২:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১ October ২০২৬ ২২:৫৯

অধিকারপত্র ডটকম শিক্ষা ডেস্ক

অধিকারপত্র ঢাবি প্রতিনিধি:

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গঠিত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক জিনাত হুদা। সাময়িক বরখাস্তের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। তার দাবি, মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হলেও সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

অধ্যাপক জিনাত হুদার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং তাকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য।

জানা গেছে, অধ্যাপক জিনাত হুদা আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটেরও নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর তাকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে অধ্যাপক জিনাত হুদার বিচারের দাবি জানিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

সাদা দলের ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, গণ–অভ্যুত্থানের বিরোধিতা এবং শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনার সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে জিনাত হুদার বিরুদ্ধে। সংগঠনটি তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক জিনাত হুদা নিজেই বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনই পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।