odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 10th October 2026, ১০th October ২০২৬

শিরোনাম: হরমুজ প্রণালি খুললেও জ্বালানির দাম বেশি কেন? বিশ্ববাজারে তেল সংকটের ৬ কারণ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ০৯:০৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ০৯:০৪

# হরমুজ প্রণালি খুললেও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের নতুন চাপ

**উপশিরোনাম:** ইরান যুদ্ধের প্রভাব, ট্যাংকার ভাড়া ও বিমা ব্যয় বৃদ্ধি, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা এবং লোহিত সাগরে হুতিদের আক্রমণে বাড়ছে তেল সরবরাহের খরচ। কমে গেছে বৈশ্বিক জ্বালানি মজুতও।

**আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম**

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও স্বাভাবিকের কাছাকাছি ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু তাতে কমছে না জ্বালানির দাম। বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেট্রল ও ডিজেলের মূল্য রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে শুরু হওয়া তেল সরবরাহের সংকট এখন বিস্তৃত জ্বালানি সংকটে রূপ নিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বছরের এই সময়ে দেশটিতে পেট্রলের দাম আগে কখনো এত বেশি ছিল না। অন্যদিকে, ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রেন চালানোর অন্যতম প্রধান জ্বালানি ডিজেলের দামও গত মাসে নির্ধারিত সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হওয়া ইতিবাচক হলেও যুদ্ধের ঝুঁকি, জাহাজ চলাচলের বাড়তি ব্যয়, তেল শোধনাগারে হামলা এবং বৈশ্বিক মজুত কমে যাওয়ায় জ্বালানির বাজারে স্বস্তি ফিরছে না।

## ট্যাংকার ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম চড়া থাকার অন্যতম কারণ তেল পরিবহনের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লার্কসন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পারস্য উপসাগর থেকে চীনে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অতি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজের (ভিএলসিসি) দৈনিক ভাড়া ছিল প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় দৈনিক ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারে।

বর্তমানে একই রুটে এ ধরনের একটি ট্যাংকার ভাড়া করতে প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৫ গুণ।

গালফ অয়েলের প্রধান জ্বালানি উপদেষ্টা টম ক্লোজা এই ব্যয়কে অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের মধ্যে কোনো ক্ষতি ছাড়াই জাহাজ চলাচল করতে পারলে ট্যাংকারের মালিকেরা লাভবান হতে পারেন। তবে জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের প্রক্ষেপণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে।

## নাবিকদের পারিশ্রমিক ও বিমা ব্যয়েও বড় ধাক্কা

যুদ্ধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জাহাজ চালাতে নাবিকদের রাজি করানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, *দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*-এর তথ্য অনুযায়ী, কিছু শিপিং কোম্পানি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় নাবিকদের একেকটি যাত্রার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি যুদ্ধঝুঁকির কারণে জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বিমা ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রযাত্রার জন্য তেল উৎপাদকদের ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টম ক্লোজার হিসাব অনুযায়ী, আগে পারস্য উপসাগর থেকে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যয় হতো প্রায় ২ ডলার। বর্তমানে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ফলে তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর খরচ কমছে না। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়ছে পেট্রলপাম্প, পরিবহন ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের ওপর।

## কাগজে তেলের দাম আর বাস্তব বাজারের দামের পার্থক্য

জ্বালানির বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আর্থিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের যে দাম দেখা যায়, বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহযোগ্য তেলের দাম তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বাস্তবে তাৎক্ষণিক সরবরাহযোগ্য অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ডেটেড ব্রেন্টের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১৩৫ দশমিক ৭৪ ডলার। বিপরীতে, ব্রেন্ট ফিউচারসের দাম ছিল প্রায় ১০০ ডলার।

অর্থাৎ ভবিষ্যৎ সরবরাহের ভিত্তিতে আর্থিক বাজারে যে দাম দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে দ্রুত সরবরাহযোগ্য তেলের জন্য ক্রেতাদের তার চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক জান স্টুয়ার্টের মতে, বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থা এখনো সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

## রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা, হুতিদের আক্রমণে বাড়ছে সংকট

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরির পেছনে শুধু ইরান যুদ্ধ নয়, একাধিক সংঘাত একসঙ্গে কাজ করছে।

ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটি জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

চীনও নিজেদের বাজারে ঘাটতি এড়াতে জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো ইতোমধ্যে প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েল উৎপাদন করছে। বছরের এই সময়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু শোধনাগারের উৎপাদন কমে আসায় সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে তেল উৎপাদন ও শোধনাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

## কমে গেছে জরুরি জ্বালানি মজুত

জ্বালানির বাজারে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ও জরুরি জ্বালানি মজুত দ্রুত কমে যাওয়া।

বছরের শুরুতে বিভিন্ন দেশে যে পরিমাণ তেল ও জ্বালানি মজুত ছিল, তা সংকটের সময় সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে সহায়তা করেছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে এসব মজুত থেকে ব্যাপক পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে।

ফলে এখন সরবরাহে নতুন কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক মজুত না থাকায় বর্তমান সরবরাহের জন্য ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক জান স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি মজুত এখন খুবই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং সংকট মোকাবিলার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।

## কবে কমবে জ্বালানির দাম?

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা তেল পরিবহন বাড়ানোই জ্বালানির দাম দ্রুত কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্যাংকার ভাড়া ও বিমা ব্যয় কমানো, ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগারের উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মজুত পুনর্গঠন জরুরি।

টম ক্লোজার মতে, চলমান সংঘাতগুলোর অবসান হলে জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে। অন্তত কয়েকটি সংঘাতের অবসানও পরিস্থিতির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখনো যুদ্ধের ঝুঁকি ও উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের মধ্যে আটকে আছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পেট্রল ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের চাপ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

**সূত্র: সিএনএন বিজনেস।**

### SEO প্যাকেজ

SEO শিরোনাম: হরমুজ প্রণালি খুললেও জ্বালানির দাম বেশি কেন? বিশ্ববাজারে তেল সংকটের ৬ কারণ

SEO সাবহেডলাইন: ইরান যুদ্ধ, ট্যাংকার ভাড়া বৃদ্ধি, রাশিয়ার শোধনাগারে হামলা ও কমে যাওয়া জ্বালানি মজুতে চাপে বিশ্ববাজার; পেট্রল-ডিজেলের দাম কমার পথে বড় বাধা।

ফেসবুক ভাইরাল শিরোনাম: হরমুজ প্রণালি খুলেছে, তবু কমছে না তেলের দাম! প্রতিদিন ট্যাংকার ভাড়া ১৬ লাখ ডলার, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট কেন?

হ্যাশট্যাগ: #জ্বালানিসংকট #হরমুজপ্রণালি #ইরানযুদ্ধ #তেলেরদাম #বিশ্বঅর্থনীতি #পেট্রল #ডিজেল #আন্তর্জাতিকসংবাদ #অধিকারপত্রডটকম

SEO কীওয়ার্ড: হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের দাম, বিশ্ব জ্বালানি সংকট, ইরান যুদ্ধ, অপরিশোধিত তেলের দাম, ট্যাংকার ভাড়া, ডিজেলের দাম, পেট্রলের দাম, রাশিয়ার তেল শোধনাগার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, CNN Business, Odhikar Patra.

সম্পাদনা-নোট: প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া সিএনএনের লেখার ভিত্তিতে তৈরি। প্রকাশের আগে তেলের দাম, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও উদ্ধৃত পরিসংখ্যানের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়া ভালো। এখানে উল্লেখিত দামগুলো মূল প্রতিবেদনে বর্ণিত সময়ের তথ্য; এগুলোকে বর্তমান বাজারদর হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।