odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 18th October 2026, ১৮th October ২০২৬
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তার ঘোষণা কায়রোর; প্রতিরক্ষা সহায়তার অনুমোদনে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন সিসি।

হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিসর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৮ October ২০২৬ ২২:১৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৮ October ২০২৬ ২২:১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে মিসর। দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নেতৃত্বাধীন জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) পরিষদের বৈঠকের পর জানানো হয়, সৌদি আরবের সম্পদ, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং পবিত্র ইসলামি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় মিসর পূর্ণ সমর্থন দেবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও বাড়ানো হবে।

 রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর আগে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে কায়রো।

সামরিক সহায়তার অনুমোদন চাইছেন সিসি

শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দিকনির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মিসর পদক্ষেপ নেবে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা সহায়তা চাওয়া হলে তা অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বিদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা বা সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে মিসরের আইনে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

তবে সৌদি আরবকে সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হলেও ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়নি।

লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

সৌদি আরব ও মিসরের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে কায়রো সফরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে সিসি লোহিত সাগরে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ চলাচলের পক্ষে অবস্থান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা মিসরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে সুয়েজ খালের মাধ্যমে মিসরের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ ছাড়া সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক মিসরীয় নাগরিক বসবাস ও কাজ করেন। ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি মিসরের অর্থনীতি ও নাগরিকদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সহায়তার ধরন কী হতে পারে?

আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনুমোদন পাওয়া গেলে সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো বিষয় থাকতে পারে। তবে এগুলো বিশ্লেষকদের সম্ভাব্য ধারণা; মিসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

সিসি তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মিসরের উদ্দেশ্য কারও সঙ্গে যুদ্ধ করা বা কাউকে আক্রমণ করা নয়; বরং সৌদি আরবকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া।

**সূত্র: আল-জাজিরা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬।**

 

:

সৌদি আরবের পাশে মিসর, হুতিদের হামলার মধ্যে সামরিক সহায়তার প্রস্তুতি

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার মুখে সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিসর। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি প্রতিরক্ষা সহায়তার অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সম্ভাব্য সহায়তার ধরন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে চূড়ান্ত সামরিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত নয়।

হ্যাশট্যাগ: #মিসর #সৌদি_আরব #হুতি #ইয়েমেন #মধ্যপ্রাচ্য #লোহিত_সাগর #আন্তর্জাতিক_সংবাদ #অধিকারপত্র