odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st October 2026, ২১st October ২০২৬
ওয়াইজঘাটে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন; অশুভ শক্তির বিনাশ, সম্প্রীতি ও দেশের মঙ্গল কামনা

বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি, ভক্তদের প্রার্থনায় শান্তিময় বাংলাদেশ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২১ October ২০২৬ ২০:৪৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২১ October ২০২৬ ২০:৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। বিদায়ের মুহূর্তে কারও চোখে ছিল অশ্রু, কারও কণ্ঠে দেবীবন্দনা, আবার কেউ প্রার্থনা করেন দেশ ও মানুষের কল্যাণে।

দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্যের তালে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো ওয়াইজঘাটে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি বিরহ ও বিষাদের আবহ তৈরি হয়।

 দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনায় ভক্তরা

মহাখালী থেকে বাবার সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়স্মিতা জানায়, দশমীর লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার মন খারাপ হতে থাকে। কয়েক দিন দেবী দুর্গার উপস্থিতিতে আনন্দে কাটলেও বিদায়ের মুহূর্তে তার কষ্ট হচ্ছে। দেবীর কাছে তার প্রার্থনা, দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর হোক, বাংলাদেশ শান্তিময় হোক এবং সবাই ভালো থাকুক।

পুরান ঢাকার হাজারীবাগ গণকটুলী থেকে আসা রীমা রানী বলেন, দুর্গাপূজার দিনগুলো আনন্দে কেটেছে। দেবী দুর্গাকে ঘিরে চারপাশ উৎসবমুখর ছিল। তবে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আবারও এক বছরের অপেক্ষা শুরু হলো। এবারের পূজায় তিনি দেশের শান্তি এবং সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

ধানমন্ডি থানা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্রী রাজিব কুন্ডু বলেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা দেবীকে বিদায় জানাচ্ছেন। অসুর বধ ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গার কাছে তারা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রার্থনা করেছেন। অন্যায়-অপরাধ দূর হওয়া, অশুভ শক্তির উত্থান রোধ এবং দেশের সুষ্ঠু পরিচালনার মধ্য দিয়ে সব মানুষের মঙ্গল নিশ্চিত হোক—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

 সিঁদুর খেলায় দশমীর আনুষ্ঠানিকতা

দশমীর সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে নারীরা পূজার অন্যতম প্রধান আচার সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। দেবী দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদনের পর তারা একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা জানান। এ আচারকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসব।

বিসর্জন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা

প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ওয়াইজঘাট ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের বিশেষায়িত দল সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েক শ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন জানান, বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ওয়াইজঘাটসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, গত বছর বিসর্জনের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত থাকলেও এবার তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমা বহনকারী ট্রাকের চলাচল সহজ করতে সড়কে একমুখী ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিসর্জন শেষে ট্রাকগুলো যাতে সহজে বেরিয়ে যেতে পারে, সে জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়।

উৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে ভক্তরা আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রইলেন। তাদের প্রার্থনায় উঠে এসেছে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও সবার কল্যাণের প্রত্যাশা।