odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 23rd October 2026, ২৩rd October ২০২৬
আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ; স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ, অন্য ছাত্রীদের পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মহিলা মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৩ October ২০২৬ ২১:৪৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৩ October ২০২৬ ২১:৪৫

পাবনা প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম

পাবনা জেলা সদরে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু ইউসুফকে (৫৫) পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন আবু ইউসুফ। বাড়ির একটি কক্ষে ছাত্রীরা থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে একজন নারী শিক্ষকও থাকতেন। পাশের একটি কক্ষে থাকতেন মাদ্রাসার পরিচালক।

ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাঁর সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কক্ষ থেকে বের হলে আবু ইউসুফ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখে বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের ডাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত পরিচালককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সকালে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় মাদ্রাসায় থাকা অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে বাড়িটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। এ সময় বাড়িটির আশপাশে শত শত উৎসুক মানুষ জড়ো হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক যুবক জানান, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পরিচালককে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যানের বক্তব্য

ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ভোরে ঘটনার পর ছাত্রীটি তাঁদের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানায়। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি ঘটনা স্বীকার করার পর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত পরিচালক থানায় রয়েছেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা এ ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।