অধিকারপত্র সারাদেশের সংবাদ প্রতিবেদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকাজে বাধা প্রদান এবং ঢাকায় শিল্পী সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিরোধিতার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনটি এসব ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতি অবমাননা হিসেবে তুলে ধরে। পাশাপাশি, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নীল দল। সংগঠনটির মতে, ‘জয় বাংলা’ কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী রণধ্বনি, স্বাধীনতার গৌরব এবং কোটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা, জাতীয় ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন ধ্বংসের বিরুদ্ধে নীল দলের এই প্রতিবাদ কেন গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে এসব ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক মূল্যবোধের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি কেন জরুরি—তা জানতে পড়ুন বিস্তারিত সংবাদ।
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকাজে বাধা প্রদান এবং ঢাকায় শিল্পী সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিরোধিতার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। সংগঠনটি এসব ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং জাতির গৌরবময় আত্মপরিচয়ের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবাদলিপিতে নীল দলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাতের অন্ধকারে দাফন করার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক, অপমানজনক ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। প্রতিবাদলিপিতে মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
নীল দলের বক্তব্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানাজা ও দাফনকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা স্বাধীনতাপ্রিয় ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাঙালির জন্য গভীর ক্ষোভ ও অপমানের কারণ। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নারীদের দিয়ে কবর খোঁড়ানোর ঘটনার উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি অসম্মান নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার ওপর আঘাতেরও প্রতিফলন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, একইভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিল্পী সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধা দেওয়া এবং স্লোগানটিকে ‘নষ্ট স্লোগান’ বলে অভিহিত করার ঘটনাও উদ্বেগজনক। নীল দলের মতে, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই; বরং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, পুনর্লিখন ও নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটি দেশীয় ও লোকজ সংস্কৃতির ওপর আঘাত, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির অবমাননা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙচুর এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন ধ্বংসের ঘটনাগুলোকেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আঘাতের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নীল দলের বক্তব্যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংগঠনটির মতে, ‘জয় বাংলা’ কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী রণধ্বনি, কোটি বাঙালির গৌরবময় আত্মপরিচয়ের চিরন্তন প্রকাশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ধ্বনি। তাই এই স্লোগানের অবমাননা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করে সংগঠনটি।
প্রতিবাদলিপিতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নীল দলের মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনকাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নাগরিকের মর্যাদা, ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার এবং জাতীয় বীরদের প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।
নীল দল অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু কোনো একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।
-বিশেষ প্রতিবেদক (প্রেস বিজ্ঞপ্তির আলোকে)
#মানিকপশারী #বীরমুক্তিযোদ্ধা #মুক্তিযোদ্ধাদেরসম্মান #নীলদল #ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় #জয়বাংলা #মুক্তিযুদ্ধ #মুক্তিযুদ্ধেরচেতনা #বাংলাদেশেরস্বাধীনতা #মুক্তিযুদ্ধেরইতিহাস #ইতিহাসবিকৃতি #মুক্তিযুদ্ধেরঐতিহ্য #জাতীয়আত্মপরিচয় #মুক্তিযোদ্ধাদেরঅবমাননারপ্রতিবাদ #দৃষ্টান্তমূলকশাস্তিরদাবি #মুক্তিযুদ্ধেরপক্ষেশক্তি #আমাদেরঅধিকারপত্র #OdhikarPatra #BangladeshLiberationWar #FreedomFighters #JoyBangla #DhakaUniversity #BluePanel #Bangladesh
