আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজেকে ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ দাবি করে দেওয়া পোস্ট মুছে ফেলেছেন দেশটির সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। পরে নতুন পোস্টে নিজেকে ব্রাজিলের ‘নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেওয়া বক্তব্যের বরাতে *দ্য জেরুজালেম পোস্ট* জানায়, নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে ফ্লাভিও বলসোনারো দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনটিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পোস্টে ফ্লাভিও নিজেকে ব্রাজিলের ‘প্রকৃত নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ বলে দাবি করেছিলেন। পরে সেই পোস্ট মুছে নতুন বক্তব্য প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর সমর্থক ও ব্রাজিলের জনগণের কাছে তিনি নেতা এবং নির্বাচনে কারচুপির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দেশটিতে স্বৈরাচারী পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব দিতে চান
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকীকরণের কারণে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। তবে তাঁর দেশত্যাগের পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ফ্লাভিও দাবি করেন, তিনি পালিয়ে যাননি; বরং নিজের দেশের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে না নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্ব দিতে চান।
নির্বাচনী ফল নিয়ে অভিযোগ, সামনে রাজনৈতিক সংঘাতের প্রশ্ন
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিওর বক্তব্য এবং ‘প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট’ পরিচয় বদলে ‘নেতা’ ব্যবহারের ঘটনা ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করা নির্বাচনী ফলাফলের বৈধতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের তথ্য, আনুষ্ঠানিক তদন্ত এবং যাচাইযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ফ্লাভিওর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সূত্র:The Jerusalem Post;
