ছবি : সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো রফিকুল ইসলাম
অধিকারপত্র ডটকম, শিক্ষা ডেক্স :
ঢাকা: ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ। এবার মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই কমেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।
উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে।
গত বছরের তুলনায় ফলাফল খারাপ
২০২৫ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৯ হাজার ৯৭ জন। এবার পাসের হার কমে হয়েছে ৫২.১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২৯ হাজার ১৩টি।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশ
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।
এই বোর্ডগুলোতেও ছাত্রীদের ফল তুলনামূলক ভালো। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। ছাত্রদের চেয়ে ৮৫ হাজার ৬৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে।
প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের চিত্র
এ বছর পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৭৬০টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ৯ হাজার ৩৯০টি। গত বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৮৮টি, তবে কেন্দ্র কমেছে ৪০টি।
এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৯টি। অন্যদিকে, একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯৩টি, যা গত বছরের তুলনায় ৯১টি বেশি।
বিদেশের কেন্দ্রেও পরীক্ষা
বিদেশের আটটি কেন্দ্রে মোট ২৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২০৯ জন। বিদেশের কেন্দ্রগুলোতে পাসের হার ৯০.৮৭ শতাংশ।
চলতি বছরের ফলাফলে সামগ্রিক পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষাব্যবস্থার মান ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

