
কৌশিক মন্ডল আকাশ
অত্যাধুনিক মিল কল-কারখানার অটো মেশিনের প্রযুক্তিতে তৈরি সেমাই সর্বত্র ব্যবহার হলেও পবিত্র রমজান মাস আসলে সিরাজদিখান উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে দেখা যেত দুইটি আনন্দ। একটি ছিল রোজা রাখা, অন্যটি ছিল ঈদুল ফিতর পালনে হাত মেশিনে সেমাই তৈরির ধুম। গ্রাম-গঞ্জের নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবেই পুরো রমজান জুড়ে ব্যস্ত সময় পার করতো সেমাই তৈরিতে।
ময়দা ও পানি দিয়ে তৈরি করা হতো হাত মেশিনের সেমাই। পুরুষ হাত দিয়ে ঘুরাতো হাত মেশিনের হাতল। আর নারী সেই মেশিনের মুখে আঙুল দিয়ে ঠেসে দিত ময়দা। হাত মেশিনের ঘুরানো হাতলের চাপে ছোট ছোট জালি দিয়ে বের হতো সেমাই।
এগুলো রোদে শুকিয়ে তৈরি হতো সেমাই। এই সেমাই দিয়েই পালিত হতো ঘরে ঘরে ঈদুল ফিতর উৎসব। কিন্তু এখন উন্নত প্রযুত্তিতে লাচ্ছাসহ বিভিন্ন মেশিনজাতকৃত সেমাই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় আজ আর সিরাজদিখানে খুব এক একটা চোখে পড়েনা হাত মেশিনের সেমাই। তবে কিছু কিছু বাড়িতে রমজান আসলেই এখনো দেখা মেলে হাতের সেমাই তৈরির কল। গৃহিণী রুনু বেগম বলেন বাজার থেকে যত দামি সেমাই বা লাচ্ছা কিনে আনা হোক না কেন হাত মেশিনের ময়দা দিয়ে তৈরির সেমাইয়ের মতো স্বাদ হবে না। এবার ময়দা দিয়ে তৈরি হাত মেশিনের সেমাই তিনি নিজে খাবারের জন্য রেখে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়েছেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: