
ইবি প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সকল পদ থেকে আওয়ামী পন্থীদের সরিয়ে তদস্থলে যোগ্য ব্যাক্তি নিয়োগ দেয়ার দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান করে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টরের মধ্যে কথা কাটাকাটি মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে তার কার্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুর বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে বিচ্ছিন্নভাবে এ ঘটনাগুলো ঘটে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের অপসারণ এবং তদস্থলে অন্য কাউকে নিয়োগের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের বাইরে হট্টগোল শুরু হলে এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন। তাদের সাথে উপাচার্যের কার্যালয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা প্রবেশ করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ উপাচার্যের সম্মতিক্রমে সাংবাদিকদের উপাচার্যের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপাচার্যের কার্যালয়ের দরজা আটকে রাখতে দেখা যায়।
পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের ভেতর থেকে কথা-কাটাকাটির আওয়াজ আসলে সাংবাদিকরা বাধা উপেক্ষা করে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। হট্টগোলের শব্দ শুনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ দৌঁড়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে।
এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উপাচার্যকে এ ঘটনা তদন্ত করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আল্টিমেটাম দেন।
একই সময় কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মধ্যেকার একটি পক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে তার কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। তাৎক্ষণিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কার্যালয় খুলে দেন এবং সেখানে তাকে তার কাজ চালিয়ে যেতে বলেন।
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের এখানকার একদল লোক আমার অফিসে এসে রুম থেকে আমাকে বের করে দিয়ে অফিসের পিয়ন কে রুমে তালা দিতে বললেন। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিবে আমি তা মানতে বাধ্য।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, আজকের যে উদ্ভূত অবস্থা তা বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে আপনাদের প্রসাশনকে একটা পক্ষ জিম্মি করে রাখার চেষ্টা করছে আপনিও (উপাচার্য) জানেন, আমিও জানি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা জানে।
এসময় তিনি উপাচার্যকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট চাই। সেখানে যদি কোনো কর্মকর্তা, কোনো ছাত্রনেতা বা আমার কোনো কর্মীও হয় আমি তার গলার নালী টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও আপনি যদি অপারগতা দেখান তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমরা আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবো।
উল্লেখ্য, বর্তমান রেজিস্ট্রারের অপসারণ ও সেই পদে নতুন যোগ্য ব্যাক্তি নিয়োগের বিষয়ে সোমবার উপাচার্যের সাথে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব জানান এবং উপাচার্য তাতে সম্মতি জানান। তার প্রেক্ষিতে আজ বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে। পরে ছাত্রদল নেতারা উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করলে আজকের ঘটনা ঘটে।
মো: সামিউল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
০৪ মার্চ, ২০২৫
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: