odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 30th November 2025, ৩০th November ২০২৫

তারেক রহমানের দেশে ফেরায় বাধা কোথায়? রাজনৈতিক জল্পনা ও বিদেশি ফ্যাক্টরের আলোচনা; 'মাইনাস টু ফর্মুলা'র ছায়া

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ November ২০২৫ ২৩:১৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ November ২০২৫ ২৩:১৪

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, 
 অধিকারপত্র ডটকম :


তারেক রহমানের দেশে ফেরায় বাধা আসলে কার? ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে রহস্য ও জল্পনা
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ঢাকা: গুরুতর অসুস্থ মায়ের পাশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর 'সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়'—ফেসবুকে দেওয়া তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় তুলেছে। কেন তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে, সেই প্রশ্ন এখন সব মহলে।


এ নিয়ে দিনভর রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার মধ্যে শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি শুধু বলেছেন, "তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা রয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।"


সরকারের আপত্তিতে নেই, জানালেন প্রেস সচিব
তারেক রহমানের স্ট্যাটাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসে। বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে স্পষ্ট করেন, "এ ব্যাপারে (তারেক রহমানের ফেরা) সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি-নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নাই।"


এর আগে অক্টোবরের শুরুতে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মি. রহমান "দ্রুতই দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার" কথা জানালেও নভেম্বর শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন আগে তিনি নিজেই জানালেন, তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই


নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে 'বিদেশ থেকে খেলা চলছে'
এদিকে, সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ বড় দুটি দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে একটি অগণতান্ত্রিক তৎপরতা রয়েছে এবং 'বিদেশ থেকে একটা খেলা চলছে'। বড় দুটি দল বলতে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কথা বুঝিয়েছিলেন।


এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের এই রহস্যময় স্ট্যাটাস 'মাইনাস টু ফর্মুলা'র (দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরানোর কথিত উদ্যোগ) পুরনো আলোচনাকে আবার সামনে এনেছে।


ফেরার পথে বাধা কোথায়?
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১৫ মাস পরও তারেক রহমানের দেশে না ফেরা নিয়ে কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছিল। বিশেষ করে সম্প্রতি সব মামলা থেকে তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পেলেও কেন তিনি ফিরছেন না, সেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।


বিএনপির কিছু সূত্র বলছে, তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের আপত্তির বিষয়টি কাজ করে থাকতে পারে। যদিও কোন দেশ কেন আপত্তি জানাচ্ছে, তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, দেশে আসার বিষয়টি তার নিজের ওপর নির্ভর করে না এবং আরও অনেক ফ্যাক্টর আছে যার ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই।
তিনি বলেন, "উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে তারেক রহমানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়টি সামনে এসেছিলো এবং যে যা-ই বলুন না কেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তন না হলে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কোন ভরসায়। বাংলাদেশের রাজনীতি অনেকটাই নির্ভর করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ার ওপরে।"


এছাড়া, ২০০৮ সালে লন্ডনে যাওয়ার সময় তারেক রহমান এক ধরনের মুচলেকা দিয়েছিলেন বলে বিএনপির প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদ তার 'কারাগারে কেমন ছিলাম' বইতে উল্লেখ করেছেন। সেই অঙ্গীকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিনা, তাও পরিষ্কার নয়।


বিএনপি নেতাদের আশ্বাস: তফসিল হলে তিনি ফিরবেন
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিএনপির কয়েকজন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল হলে পরিস্থিতি যেমনই হোক, মি. রহমান দেশে ফিরবেন এবং তিনিই নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন।


তবে বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ১/১১-এর সময়কার কথিত 'মাইনাস টু ফর্মুলা' শেষ পর্যন্ত 'মাইনাস ফোর'-এ গড়ায় কিনা—যেখানে দুই পরিবারের ধারাবাহিক শাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল—সেটি সময়ই বলে দেবে। খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে নিষ্ক্রিয়, ফলে বাকি রইলেন তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা সেই দিকেই ইঙ্গিত করে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: