odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 17th January 2026, ১৭th January ২০২৬
ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে

ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা আসনগুলো ১০ দলের মধ্যে বণ্টন হবে: মামুনুল হক

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ January ২০২৬ ২০:০৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ January ২০২৬ ২০:০৩

✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের জন্য আগে নির্ধারিত ৪৭টি সংসদীয় আসন এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ১০টি দলের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকেই যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন করা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকায় একই প্রক্রিয়ায় সমঝোতার ভিত্তিতে ওই আসনগুলো ভাগ করা হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হবেন, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।”

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জোটে ফেরাতে ৪৭টি আসন রেখে দেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এর আগে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। এর মধ্যে জামায়াতের জন্য নির্ধারিত হয় ১৭৯টি আসন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পায় ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পায় ২০টি আসন।

মামুনুল হক জানান, আগামী ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই বাকি আসনগুলোর বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী ছাড়া অন্যরা নিজ নিজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।

ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়ায় নির্বাচনে কোনো বড় প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোটের দলগুলো ঐক্যের অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি। তাই নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন না তিনি।

চরমোনাই পীরের দলের জোটে না থাকার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না—এ প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, ষড়যন্ত্রের কিছু তিনি দেখছেন না। সবাই একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাকে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না—ইসলামী আন্দোলনের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের মূল অর্থ ছিল সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। এক দিনে হঠাৎ করে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়—এই বাস্তবতাই তিনি তুলে ধরেছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: