odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 10th February 2026, ১০th February ২০২৬
৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপর কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৪২ হাজার কেন্দ্রের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ কড়াকড়ি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১০ February ২০২৬ ১৫:০০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১০ February ২০২৬ ১৫:০০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তার চাদর বসানোর পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বড় একটি অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ (পুলিশের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার চিত্র বেশ উদ্বেগজনক; যেখানে ৮০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।

যেভাবে চিহ্নিত করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (এসবি) মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বিবেচনা করে এই তালিকা প্রস্তুত করে:

অতীত রেকর্ড: যেসব কেন্দ্রে আগে সহিংসতা, ভাঙচুর বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ভৌগোলিক অবস্থান: দুর্গম চরাঞ্চল, পার্বত্য এলাকা বা সীমান্তবর্তী কেন্দ্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেশি থাকে।

রাজনৈতিক প্রভাব: প্রভাবশালী প্রার্থী বা নেতার বাড়ির পাশের কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।

অবকাঠামো: সীমানা প্রাচীরহীন বা যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক এমন কেন্দ্রগুলো দ্রুত রেসপন্সের ক্ষেত্রে কঠিন হওয়ায় সেগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।

ঢাকা ও সারাদেশের পরিসংখ্যান

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, সারাদেশের মোট কেন্দ্রের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ঢাকার চিত্র ভিন্ন।

ঢাকা মহানগর: ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২,১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১,৬১৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা-১৮ আসন: এখানে ২১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, যা রাজধানীর মধ্যে সর্বোচ্চ।

সারাদেশ: পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ কেন্দ্র কোনো না কোনো মাত্রায় ঝুঁকিতে রয়েছে (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৮,২২৬টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ২০,৪৩৭টি)।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা পরিকল্পনা

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে: ১. বডিওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি: এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে পুলিশের জন্য ২৫ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে সিসিটিভি নজরদারি। ২. সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন: নির্বাচনে এক লাখেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী সড়ক ও মহাসড়কের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে 'আর্মি এভিয়েশন' প্রস্তুত রাখবে। ৩. ফোর্স বিন্যাস: সাধারণ কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ থাকলেও মেট্রোপলিটন এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। সাথে থাকবে আনসার ও ভিডিপির বড় দল। ৪. সীমান্ত নজরদারি: বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও কালো টাকার প্রবাহ রোধে কাজ করবে সিআইডি।

প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সতর্কতা

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো বা ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে বিশেষ সাইবার ইউনিট কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝে বাড়তি নিরাপত্তার চাহিদা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১২ই ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮৮ শতাংশ সদস্যই সরাসরি মাঠে কাজ করবেন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: