odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 10th February 2026, ১০th February ২০২৬
ভোটের আগে অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঠেকাতে বিকাশ-নগদে কড়াকড়ি—ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ হলেও রিচার্জ ও বিল পেমেন্ট চালু থাকবে

নির্বাচন ঘিরে বিকাশ-নগদে ৯৬ ঘণ্টার কড়াকড়ি, বন্ধ ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১০ February ২০২৬ ১৪:২০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১০ February ২০২৬ ১৪:২০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) লেনদেনে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব এমএফএস সেবায় টানা ৯৬ ঘণ্টার জন্য ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং তা চলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় গ্রাহকেরা কিছু নির্দিষ্ট সেবা ব্যবহার করতে পারলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সম্পূর্ণ বন্ধ

নির্বাচনী সময়ে অবৈধ অর্থ প্রবাহ কমাতে এবং ভোট কেনাবেচার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের পারসোনাল অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ-ইন এবং ক্যাশ-আউট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই সময়ে কোনো গ্রাহক এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে এমএফএস অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে পারবেন না এবং একইভাবে নগদ অর্থ উত্তোলনও করতে পারবেন না। এই কারণেই বিকাশ ও নগদের অ্যাপে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট অপশনগুলো বর্তমানে নিষ্ক্রিয় বা ভিন্ন রঙে প্রদর্শিত হচ্ছে।

সেন্ড মানির নতুন সীমা

তবে জরুরি প্রয়োজনে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহককে টাকা পাঠাতে পারবেন। এক্ষেত্রে সেন্ড মানি’র ওপর নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী—

প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা

দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার

দিনে মোট সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা

অর্থাৎ দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি সেন্ড মানি করা যাবে না।

মোবাইল রিচার্জ ও পেমেন্ট স্বাভাবিক থাকবে

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পে (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) এবং অনলাইন/দোকান পেমেন্ট আগের মতোই স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো সীমা আরোপ করা হয়নি। গ্রাহকেরা তাঁদের অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

শিক্ষা ও জরুরি ফি পরিশোধ চালু

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি প্রদান এবং বিভিন্ন সরকারি জরুরি সেবার ফি পরিশোধে কোনো বাধা রাখা হয়নি। এই সেবাগুলো আগের নিয়মেই সচল থাকবে।

কেন এই বিধিনিষেধ আরোপ?

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী সময়ে ভোট কেনাবেচা, অবৈধ লেনদেন বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থের যোগান বন্ধ করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর সব ধরনের এমএফএস সেবা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হবে। এদিকে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: