নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা। একটি দেশের জনগণ যত বেশি শিক্ষিত হয়, সেই দেশের উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং কর্মদক্ষতা তত বাড়ে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ ও অঞ্চলগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শতাংশের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি
গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পরিসংখ্যান জনসংখ্যার মোট সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে জনসংখ্যায় বিশাল দেশ ভারত (India) এই তালিকায় শীর্ষ ৩০-এ জায়গা পায়নি। যদিও বাস্তবে ভারতের ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীর সংখ্যা অনেক দেশের তুলনায় বেশি কিন্তু মোট জনসংখ্যার তুলনায় তাদের হার ১৫ শতাংশেরও কম হওয়ায় তারা তালিকার বাইরে রয়ে গেছে।
শিক্ষার সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক
বিশেষজ্ঞরা বলছেন একটি দেশের উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শিল্পায়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বড় ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে শিক্ষিত কর্মী বাহিনী দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে জাতীয় আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
কারা শীর্ষে?
জরিপ অনুযায়ী বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ ও অঞ্চল এই তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে ব্যাচেলর ডিগ্রির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশ ও অঞ্চলগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা জানতে আগ্রহীরা বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখতে পারেন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশগুলোর তালিকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যাপক আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। এই তালিকায় ৫২.৪% স্নাতকধারী নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে আয়ারল্যান্ড। এর ঠিক পরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (৪৬.০%) এবং এশিয়ার অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর (৪৫.০%)। তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম (৪৪.১%) এবং যুক্তরাজ্য (৪৩.৬%)। পরবর্তী অবস্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসে স্নাতক ডিগ্রির হার ৪২.০% এবং শক্তিশালী অর্থনীতি ও উচ্চশিক্ষার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৪০.৩%। তালিকার শেষ তিনটি অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (৩৯.৮%), ইসরায়েল (৩৯.৭%) এবং সুইডেন (৩৯.৬%)। সামগ্রিকভাবে এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, এই দেশগুলো তাদের মানসম্মত উচ্চশিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে চলেছে।
প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণ
আয়ারল্যান্ডের উত্থান: এক সময়ের কৃষিপ্রধান দেশ আয়ারল্যান্ড এখন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
এশিয়ার উজ্জ্বল নক্ষত্র: সিঙ্গাপুর তার কঠোর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান ও গণিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে এশিয়ার মধ্যে অন্যতম শীর্ষ শিক্ষিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
ইউরোপের আধিপত্য: শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে ৬টিই ইউরোপ মহাদেশের। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করছে।
উচ্চশিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, বরং একটি জাতির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেও অপরিহার্য।
-মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: