নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমগুলোকে নিবিড়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস (NYT)-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রধান লক্ষ্য: মার্কিন রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরান গত বছর মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের ওপর তারা আক্রমণ তীব্রতর করেছে।
কাতার ও কুয়েতে হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল উদেদ এয়ার বেসের আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম এবং কুয়েতের আরিফজান বেসের তিনটি রাডার ডোম ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা: বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকেজো করতেই এই কমান্ড ও যোগাযোগ সক্ষমতায় আঘাত হানা হচ্ছে।
কেন এই কৌশল পরিবর্তন?
গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রসহ একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়। ইরান বুঝতে পারে যে সম্মুখ ফায়ারপাওয়ারে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পেরে উঠবে না। ফলে তারা তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বূহ্য ভেঙে ফেলার দিকে মনোনিবেশ করে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি আর. নাসর বলেন, ইরান খুব দ্রুত শিক্ষা নিয়েছে। তারা বুঝে গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইন্টারসেপ্টর থাড (THAAD) এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমের মতো রক্ষণাত্মক সক্ষমতায় দুর্বল।
কমছে মার্কিন মিসাইল স্টকপাইল
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর একটি ডিসেম্বর রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট মজুদের ২০% থেকে ৫০% থাড (THAAD) মিসাইল এবং প্রায় ২০% এসএম-৩ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। এর ফলে মার্কিন ও ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দ্রুত ফুরিয়ে আসছে যা ইরানের জন্য সুযোগ তৈরি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন শঙ্কা
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ইরান তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনলেও মার্কিন বাহিনীও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন জোরালো মার্কিন বিমান হামলার কারণে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা ৯০ শতাংশ এবং সুইসাইড ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ কমেছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। তাদের মতে:
- ইরান বিপুল পরিমাণ উন্নত মিসাইল ও সুপারসনিক মিসাইল মজুদ করে রেখেছে।
- অনেক উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Launch Sites) এখনো যুক্তরাষ্ট্রের শনাক্তের বাইরে।
- সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরেও ইরানের লড়াই করার মানসিকতা কমেনি।
ইরান এখন আর আগে থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে হামলা চালাচ্ছে না এবং তাদের হামলার পরিধি ইসরায়েল ছাড়িয়ে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও বাহরাইন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: