নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে হঠাৎ কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দেওয়ায় দেশটির ভেতরে ও প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সবচেয়ে খারাপ সম্ভাব্য পরিস্থিতি বলে অভিহিত করছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন তেহরানের সঙ্গে খুব ভালো শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আঘাত কমাতে পারে। তবে ইরান সরকার এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করে জানিয়েছে এ ধরনের কোনো আলোচনা চলছে না বরং তারা মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
যুদ্ধের চেয়েও ভয়ংকর আলোচনা
ইরানের ভেতরের অনেক নাগরিক মনে করছেন বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলে সেটিই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। এক তরুণ ইরানি বলেন, যুদ্ধের চেয়েও ভয়ংকর হলো—এই সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা। আরেকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে নানা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকের কাছে এখন সশস্ত্র সংঘাতই একমাত্র পথ বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে বিভ্রান্তি
ট্রাম্প আরও বলেন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট Strait of Hormuz যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে এ ধরনের মন্তব্যকে অনেক ইরানি রাজনৈতিক নাটক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে এই বক্তব্য মূলত বৈশ্বিক তেলের বাজারকে প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে, বাস্তব কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি নয়।
যুদ্ধ, অবকাঠামো ও মানবিক সংকট
মার্কিন ও মিত্রদের হামলায় তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের মধ্যে থাকা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আমরা অবকাঠামোতে হামলাও চাই না, আবার এই সরকারের টিকে থাকাও চাই না।
অনিশ্চয়তায় ইরানের নেতৃত্ব
এদিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei-কে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হয়েছে। অনেক ইরানি দাবি করছেন তাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা যাচ্ছে। না কোনো বক্তব্য না কোনো ভিডিও।
প্রবাসীদের উদ্বেগ
বিদেশে থাকা ইরানিরাও চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক ইরানি জানান, তার মা তাকে বলেছেন ট্রাম্প বলেছেন, ঘর ছাড়ার দরকার নেই।
রেজিম চেঞ্জই মূল দাবি
দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা অনেক ইরানির অভিন্ন দাবি এই সংঘাত শেষ হলেও যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, তবে সেটি হবে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি। এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শাসন পরিবর্তন। সেটা না হলে সবকিছুই বৃথা।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: