অধিকারপত্র ডটকম : মঙ্গলবার | ১৯ মে ২০২৬ |মূল প্রতিবেদন,
নদী ও সাগরবেষ্টিত দ্বীপজেলা ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম নৌযানকে কেন্দ্র করে ঈদ মৌসুমে নিরাপদ চলাচলের দাবি জোরালো হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে যাতায়াত করলেও ফিটনেসবিহীন ও অনির্ভরযোগ্য লঞ্চের কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা-ঢাকা রুটে দৈনিক প্রায় ৩০টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। ঈদুল আজহার সময় এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। এ সময় কিছু অসাধু লঞ্চ মালিক অতিরিক্ত লাভের আশায় পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন নৌযানও চালু করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যাত্রী নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
নৌ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিটনেসবিহীন বডি, সি-সার্ভে না থাকা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের গাফিলতি এবং নদীতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলাচল।
বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকার নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে ভোলার নৌরুটগুলোতে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে। নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের সমন্বয়ে অবৈধ নৌযান বন্ধে নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোলার পুলিশ সুপার জানান, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক চৌকস টিম নৌরুটে দায়িত্ব পালন করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অতীতের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ঈদে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত নৌযাত্রা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: