odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 24th May 2026, ২৪th May ২০২৬
অধিকারপত্রের বিশেষ ধারাবাহিক- প্রথম পর্বে আজ থাকছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘গ্রুপ এ’— মেক্সিকোর চ্যালেঞ্জ, এশিয়া-আফ্রিকার লড়াই এবং নকআউট সম্ভাবনার বিশ্লেষণ

বিশ্বকাপ ২০২৬ (গ্রুপ ‘এ’): মেক্সিকোর চ্যালেঞ্জ ও এশিয়া-আফ্রিকার লড়াই

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৪ May ২০২৬ ০০:২৬

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৪ May ২০২৬ ০০:২৬

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

বৃহত্তম পরিধির ও নতুন ফরম্যাটের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। বিশ্বমঞ্চের উন্মাদনা শুরুর আগে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন দলগুলোর গ্রুপ সমীকরণে। অধিকারপত্রের বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনার প্রথম পর্বে আজ থাকছে ‘গ্রুপ এ’। যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকোর ঐতিহ্য ও ঘরের মাঠের সুবিধার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত এশিয়া ও আফ্রিকার দুই পরাশক্তি।

গ্রুপ পরিচিতি ও প্রতিযোগী চার দল

৪৮ দলের এই বিশাল মহাযজ্ঞে ‘গ্রুপ এ’-কে বলা হচ্ছে অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ এবং কৌশলী একটি গ্রুপ। এই গ্রুপে কোনো নির্দিষ্ট দলকে একক ফেভারিট বলার সুযোগ নেই। দলগুলো হলো:

মেক্সিকো (কনকাকাফ - যৌথ স্বাগতিক)

দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএএফ - আফ্রিকা)

দক্ষিণ কোরিয়া (এএফসি - এশিয়া)

চেক প্রজাতন্ত্র (উয়েফা - ইউরোপ)

ঐতিহাসিক উদ্বোধনী ম্যাচ: আগামী ১১ জুন, ২০২৬ তারিখে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আসতেকা’ স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচটি দিয়েই পর্দা উঠবে এই বিশ্বকাপের।

মেক্সিকোর ঘরের মাঠের চ্যালেঞ্জ

রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে মেক্সিকো। ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশন আর গ্যালারি ভর্তি লাখো ‘এল ট্রি’ সমর্থকদের গর্জন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে ঘরের মাঠের এই সুবিধা একই সাথে তাদের ওপর বাড়তি চাপের পাহাড়ও তৈরি করছে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার নিজেদের ফুটবল ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চাইবে মেক্সিকানরা।

ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে মেক্সিকোর প্রধান ভরসা তাদের অভিজ্ঞ ও ইউরোপ মাতানো একঝাঁক তারকা। এডসন আলভারেজ (Edson Álvarez) ওয়েস্ট হ্যামের এই শক্তিশালী মিডফিল্ডার এবং দলের অধিনায়ক মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি। সান্তিয়াগো গিমেনেজ (Santiago Giménez) ফরোয়ার্ড লাইনে ফেইনুর্ডের এই তরুণ গোলমেশিন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দেওয়ার মূল অস্ত্র। রাউল জিমেনেজ (Raúl Jiménez) আক্রমণভাগে দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার।

এশিয়া-আফ্রিকার শক্তি ও রোমাঞ্চকর লড়াই

গ্রুপ ‘এ’-র আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবলীয় দ্বৈরথে।

দক্ষিণ কোরিয়া (এশিয়ার বাঘ): এশিয়ার একমাত্র দল হিসেবে টানা ১১ বার বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এএফসি বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে তারা মূল পর্বে পা রেখেছে। গতিশীল ফুটবল ও প্রতিআক্রমণ নির্ভর কৌশলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তারা।

এশিয়ান পরাশক্তিদের স্কোয়াড ইউরোপীয় লিগ মাতানো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গঠিত। সন হিউং-মিন (Son Heung-min) দলটির প্রাণভোমরা ও অধিনায়ক, যিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। কিম মিন-জে (Kim Min-jae) বায়ার্ন মিউনিখের এই ‘মনস্টার’ ডিফেন্ডার রক্ষণভাগের মূল প্রাচীর। লি কাং-ইন (Lee Kang-in): পিএসজি (PSG)-র এই উইঙ্গার তার ক্রিয়েটিভ পাসিং ও ড্রিবলিং দিয়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবেন। হোয়াং হি-চ্যান (Hwang Hee-chan): উলভসের এই ফরোয়ার্ড তার গতি দিয়ে যেকোনো রক্ষণভাগ চূর্ণ করতে পারেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা (বাফানা বাফানা): আফ্রিকার শক্তিশালী দল নাইজেরিয়াকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে ফিরেছে তারা। শারীরিক শক্তি, গতি ও আফ্রিকান ফুটবলের নিজস্ব ছন্দ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এই গ্রুপের সমীকরণ সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিতে পারে। উদ্বোধনী ম্যাচেই মেক্সিকোকে আটকে দেওয়া তাদের প্রধান লক্ষ্য।

আফ্রিকান ছন্দ ও গতি নিয়ে আসা এই দলটির মূল তারকাদের মধ্যে রয়েছেন:রনওয়েন উইলিয়ামস (Ronwen Williams) ব্যালন ডি’অর মনোনীত এই তারকা গোলরক্ষক ও অধিনায়ক পোস্টের নিচে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। তেবোহো মোকোয়েনা (Teboho Mokoena) মাঝমাঠের দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ ও দূরপাল্লার শটের জন্য বিখ্যাত। লাইল ফস্টার (Lyle Foster) আক্রমণভাগে বার্নলির এই স্ট্রাইকার গোল করার মূল দায়িত্ব পালন করবেন।

ডার্ক হর্স ইউরোপের চেক প্রজাতন্ত্র

ইউরোপের কঠিন প্লে-অফ পার হয়ে নাটকীয়ভাবে টিকিট কাটা চেক প্রজাতন্ত্রকে এই গ্রুপের ‘ডার্ক হর্স’ বা চমক বলা হচ্ছে। প্যাট্রিক শিকের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া এই দলটি শারীরিক গঠন ও ট্যাকটিক্যাল ফুটবলে বাকি তিন দলের চেয়ে বেশ আলাদা। মেক্সিকো বা দক্ষিণ কোরিয়ার পাসিং ফুটবলের বিপরীতে হাই-প্রেসিং ও সেট-পিস দিয়ে চেক ফরোয়ার্ডরা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

শারীরিক ফুটবল ও ট্যাকটিক্যাল কৌশলে চেক দলের মূল ভরসা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলা একঝাঁক অভিজ্ঞ ফুটবলার। প্যাট্রিক শিক (Patrik Schick) বায়ার লেভারকুসেনের এই তারকা স্ট্রাইকার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে ওস্তাদ।তোমাস সুচেক (Tomáš Souček) ওয়েস্ট হ্যামের এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক মাঝমাঠের মূল ভরসা এবং সেট-পিসে দারুণ কার্যকর। লাদিস্লাভ ক্রেচিল (Ladislav Krejčí) উলভারহ্যাম্পটনের এই ডিফেন্ডার রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দেবেন। মাতেই কোভার (Matěj Kovář): পিএসভি-র এই গোলরক্ষক পোস্টের নিচে দারুণ ফর্মে আছেন।

গ্রুপ এ-এর সময়সূচি (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী)

মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: ১২ জুন, ভোর ৫:০০ টা (১১ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা)

দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র: ১২ জুন, দুপুর ১২:০০ টা

চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯ জুন, রাত ২:০০ টা

মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া: ১৯ জুন, সকাল ৯:০০ টা

দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম দক্ষিণ কোরিয়া: ২৫ জুন, সকাল ৯:০০ টা

চেক প্রজাতন্ত্র বনাম মেক্সিকো: ২৫ জুন, সকাল ৯:০০ টা

লাইমলাইটে থাকছেন যাঁরা:

গ্রুপ ‘এ’-র সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবেন চার দলের চার প্রধান কান্ডারি। স্বাগতিক মেক্সিকোর মাঝমাঠের ভরসা ও অধিনায়ক এডসন আলভারেজ, দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণভাগের সেরা অস্ত্র সন হিউং-মিন, চেক প্রজাতন্ত্রের গোলমেশিন প্যাট্রিক শিক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী রনওয়েন উইলিয়ামস-এর পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করছে এই গ্রুপের ভাগ্য।

শেষ কথা ও ভবিষ্যৎ বাণী

নতুন ফরম্যাটে প্রতি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল তো বটেই, এমনকি আটটি সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও যাবে পরবর্তী রাউন্ডে (রাউন্ড অব ৩২)।  সেই হিসাবে গ্রুপ ‘এ’ থেকে নক-আউটের রেস হবে অত্যন্ত তীব্র। ঘরের মাঠের কারণে মেক্সিকো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার ধারাবাহিকতা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান ফর্ম গ্রুপটিকে এক উন্মুক্ত যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করেছে। (আগামী পর্বে থাকছে গ্রুপ ‘বি’: কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের সমীকরণ)

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: