নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অভিজাত আবাসিক এলাকা জাপান গার্ডেন সিটিতে গত চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন অন্তত সাতটি ভবনের হাজারো বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাসা ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।
ভোগান্তির চিত্র
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক এলাকাটিতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। রান্না, গোসল ও টয়লেট ব্যবহারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংসসহ মূল্যবান খাদ্যদ্রব্য পচে নষ্ট হয়ে গেছে। জেনারেটরের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিছু সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
২০ নম্বর ভবনের বাসিন্দা মাসুম খন্দকার বলেন, ‘ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকেই আত্মীয়ের বাসায় খাবার পাঠাচ্ছেন। এভাবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকাটা অমানবিক।’ তৌহিদুর রহমান নামের আরেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি, অথচ চার দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছি। এটি কর্তৃপক্ষের চরম অযোগ্যতা।’
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) জানিয়েছে, জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমারে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ ইমরান আলী জানান, মঙ্গলবার থেকে জাপান গার্ডেন সিটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ডিপিডিসি নিজ উদ্যোগে মেরামতের কাজ শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে প্রধান কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে ২৬টি ভবনের মধ্যে ১৯টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা সম্ভব হয়। তবে বাকি ৭টি ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকায় সেগুলোতে এখনো বিদ্যুৎ ফেরেনি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, একাধিক কারিগরি সমস্যার কারণেই সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ কারিগরি দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট ৭টি ভবনের সংযোগ সচল করার পাশাপাশি এই দীর্ঘস্থায়ী অব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: