অধিকার পত্র ডটকম : ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবেদক: বিনোদন প্রতিনিধি
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালের বহুল আলোচিত চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ‘দ্য আইডাহো মার্ডারস: কলেজ নাইটমেয়ার’ নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। তিন পর্বের এই ডকুমেন্টারিতে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, অভিযুক্তের বিচার এবং এখনো অমীমাংসিত থেকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর ভোররাতে ইউনিভার্সিটি অব আইডাহোর কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন চার শিক্ষার্থী—ইথান চ্যাপিন, কেলি গনকালভেস, জ্যানা কার্নোডল ও ম্যাডিসন মোগেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া একটি ছুরির খাপ থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, একটি সাদা গাড়ির গতিবিধি এবং মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ব্রায়ান কোহবার্গারকে শনাক্ত করেন এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতে দোষ স্বীকার করার পর চারটি হত্যাকাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।
তবে বিচার শেষ হলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—‘কেন এই হত্যাকাণ্ড?’—এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তদন্তকারীরা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তথ্যচিত্রে মস্কো পুলিশের প্রধান অ্যান্থনি ডালিঙ্গারও স্বীকার করেন, এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আর কখনো জানা যাবে না।
ডকুমেন্টারিতে ব্রায়ান কোহবার্গারের ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষাজীবনের নানা দিকও উঠে এসেছে। তিনি ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ক্রিমিনোলজি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং এর আগে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন।
তাঁর কয়েকজন সাবেক সহপাঠী দাবি করেছেন, সিরিয়াল কিলার ও অপরাধ মনস্তত্ত্ব নিয়ে তাঁর অস্বাভাবিক আগ্রহ ছিল। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে অপরাধীদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্নাবলিও প্রকাশ করেছিলেন। তবে এসব বিষয় হত্যার উদ্দেশ্যের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তথ্যচিত্রে আরও কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্য উঠে এসেছে, যারা কোহবার্গারের আচরণে অস্বস্তি বোধ করার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব বক্তব্য সাক্ষাৎকারদাতাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মতামত; হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়াও তথ্যচিত্রে স্থান পেয়েছে। কেউ মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানোয় মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৬ সালে কারাগার থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রায়ান কোহবার্গার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়ায় ত্রুটির অভিযোগ তুলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তবে আদালতের পূর্ববর্তী রায় এখনো বহাল রয়েছে এবং তিনি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।
নেটফ্লিক্সের ‘দ্য আইডাহো মার্ডারস: কলেজ নাইটমেয়ার’ কেবল একটি অপরাধের পুনর্গঠন নয়; এটি বিচারব্যবস্থা, অপরাধ মনস্তত্ত্ব, ভুক্তভোগী পরিবারের বেদনা এবং উত্তরহীন প্রশ্নের এক গভীর অনুসন্ধান হিসেবেও দর্শকদের সামনে এসেছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: