অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা | ৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা: রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এলাকায় দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পুলিশের নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল সরকারি কলেজসংলগ্ন এলাকায় ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন এবং পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
এর আগে বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। পরে লাঠি, হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট হাতে তারা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের দিকে গেলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল থেকে কয়েকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত দুজনকে হাসপাতালের ভেতরে এবং একজনকে বাইরে এনে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলাকারীদের হাসপাতালের বাইরে সরিয়ে দেয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে। এ সময় ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, মারামারি এবং পরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সংঘর্ষে জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির অন্তত ৫০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলও তাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে। এসব আহতের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব দাবি; স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: