odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd October 2026, ২nd October ২০২৬
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি; উপ-উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত সমাধানের দাবি, অন্যায় না হওয়ার আশ্বাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত প্রথম মহিলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারে নীল দলের প্রতিবাদ, উপাচার্যকে স্মারকলিপি

অধিকারপত্র নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ October ২০২৬ ০০:৪৬

অধিকারপত্র নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২ October ২০২৬ ০০:৪৬

বিশেষ প্রতিবেদক | অধিকারপত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির প্রথম নির্বাচিত মহিলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার এবং একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রতিবাদে ১ অক্টোবর ২০২৬ উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে নীল দল। পরে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষকেরা তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি তুলে দ্রুত সমাধান চান। নীল দলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য শিক্ষকদের সঙ্গে অন্যায় না হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন; তবে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বা সমাধানের সময়সীমা জানানো হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রতিবাদে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, সংগঠনটির পক্ষে একদল শিক্ষক স্মারকলিপিটি পেশ করেন। পরে তাঁরা উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

নীল দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনায় শিক্ষকেরা তাঁদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়ে নিজেদের আপত্তি তুলে ধরেন। এসব বিষয়ের দ্রুত সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপ-উপাচার্য শিক্ষকদের সঙ্গে যেন কোনো অন্যায় না হয়, সে বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত কিংবা সমাধানের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানানো হয়নি।

৩০ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। নীল দল এই সিদ্ধান্তকে প্রহসনমূলক বলে অভিহিত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, এর আগে তাঁকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছে।

নীল দলের বক্তব্য অনুযায়ী, জিনাত হুদার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চলমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতার অংশ। সংগঠনটি দাবি করেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং যথাযথ ভিত্তি ছাড়াই তাঁদের পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তবে অধ্যাপক জিনাত হুদার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা তাঁকে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পূর্ণ পাঠ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি।

১১ শিক্ষককে ঘিরে বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনালের দাবি

নীল দলের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আদেশ অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা না পেয়েও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষককে ঘিরে বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে নীল দল।

সংগঠনটি এসব পদক্ষেপকে শিক্ষকদের পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশের শিক্ষাখাতে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে উল্লিখিত ১১ জন শিক্ষকের নাম, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থার পৃথক বিবরণ বিজ্ঞপ্তিতে নেই।

আলোচনায় তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি

উপ-উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষকেরা তদন্ত ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির নামে পরিচালিত কার্যক্রমকে প্রহসনমূলক বলে অভিযোগ করেন। তাঁদের বক্তব্য, অসত্য অভিযোগের ভিত্তিতে একের পর এক শিক্ষককে বহিষ্কার এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষকেরা এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে দ্রুত সমাধান চেয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। স্মারকলিপি পেশের পাশাপাশি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাঁদের উদ্বেগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নাম বা আলোচনার বিস্তারিত কার্যবিবরণী উল্লেখ করা হয়নি। উপ-উপাচার্যের আশ্বাসের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়েও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

#ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #জিনাত_হুদা #নীল_দল #শিক্ষক_অধিকার #শিক্ষকের_মর্যাদা #একাডেমিক_স্বাধীনতা #সিন্ডিকেট #ট্রাইব্যুনাল #স্মারকলিপি #অধিকারপত্র