নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
পারস্পরিক স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই কথা স্পষ্ট করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কিছু ব্যক্তির প্রত্যর্পণের অনুরোধ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করেন ভারতীয় মুখপাত্র।
জ্বালানি সহযোগিতা ও অতিরিক্ত চাহিদা পর্যালোচনা
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৮ হাজার (বা ৪ হাজার) লিটার ডিজেল বা জ্বালানি সরবরাহের যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত জ্বালানির এই অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিশোধন সক্ষমতা এবং প্রাপ্যতা বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিস্তা ও অভিন্ন নদী ইস্যু
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন বা অভিন্ন নদীর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। পানি-সম্পর্কিত সব আলোচনা যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মনে করে ভারত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আগেই ভারত সফরের জন্য সৌহার্দ্যপূর্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সফর নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা তারিখ নির্ধারিত হলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও আইনি প্রক্রিয়া
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল ভারতের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধগুলো প্রতিষ্ঠিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উপস্থিতি প্রসঙ্গে ভারত আগেই পরিষ্কার করেছে যে, এর সঙ্গে ভারতীয় সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল জানান, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা এমন একটি বিষয় যা সবার জন্যই উদ্বেগের। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে ভারত ইচ্ছুক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: