নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের সংগঠিত করা, তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বধির ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (Bangladesh Deaf Cricket Association—BDCA)। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, নতুন কার্যালয় স্থাপন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সম্ভাবনাময় বধির ক্রিকেটারদের জন্য নিয়মিত ক্যাম্প ও অনুশীলনের সুযোগ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংগঠনের জারি করা নোটিশ অনুযায়ী এটি ছিল বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ৫১তম কার্যনির্বাহী পরিষদ সভা। সভা বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সদস্যদের বিকেল ৪টার মধ্যে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সভাস্থল ছিল সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়—৭০–৭১, আউটার সার্কুলার রোড, মগবাজার, ঢাকা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহসভাপতি ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এম. আই. চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক এস. এম. মঞ্জুর ইকবাল, কোষাধ্যক্ষ মো. ওয়াজেদ আলী এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব ফাহিম সলিম ফাহমি ও জনাব মো. নজরুল ইসলাম।
সভাপতিকে অভিনন্দন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে সভা শুরু
সভা শুরুর প্রাক্কালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. আই. চৌধুরী উপস্থিত সদস্যদের অবহিত করেন যে, বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সভাপতি জনাব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাবু সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এ সংবাদে সভায় উপস্থিত সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং সর্বসম্মতভাবে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ দেশের বধির ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের উন্নয়ন, বিসিবির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ক্রিকেটের সুযোগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে, এদিনের সভায় সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থাকতে না পারায় সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। উপস্থিত সকল সদস্য এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে সমর্থন করেন। দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও বধির ক্রিকেটের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সভার কার্যক্রম শুরু করেন।
এরপর পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী পাঠ, উপস্থাপন ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত আলোচ্যসূচি অনুযায়ী সভার মূল কার্যক্রম এগিয়ে যায়।
আগের সভার কার্যবিবরণী সর্বসম্মত অনুমোদন
সভা শুরু হয় আগের সভাগুলোর কার্যবিবরণী পাঠ ও উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে। পূর্ববর্তী ৪৯তম ও ৫০তম কার্যনির্বাহী পরিষদ সভার সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
এরপর নির্ধারিত আলোচ্যসূচি অনুসারে একে একে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং ক্রিকেট উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাতা মেজর (অব:) সাঈদ ইস্কান্দারকে স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি
সভায় বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) সাঈদ ইস্কান্দার-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, মেজর সাঈদ ইস্কান্দার ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। সংগঠনের নেতারা বলেন, বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে বিগত বছরগুলোতে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ পরিসরে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
সভায় সাধারণ সম্পাদক এম. আই. চৌধুরী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠাতার অবদান স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশে বধির ক্রিকেটকে সাংগঠনিক ভিত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে মেজর সৈয়দ ইস্কান্দারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটার ও সংগঠকদের কাছে তাঁর অবদান তুলে ধরা প্রয়োজন।
আলোচনা শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাঁর স্মরণে আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
একই সঙ্গে তাঁর নিজ এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠানটি আরও অর্থবহ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
স্মরণসভা আয়োজনে বিওএ বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনের চিন্তা
প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় স্মরণসভা আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (BOA) অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC)-এর কোনো উপযুক্ত মিলনায়তন ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সংগঠনের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিনা ভাড়ায় বা বিশেষ সহযোগিতায় মিলনায়তন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রয়াত সৈয়দ ইস্কান্দারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় মত দেওয়া হয়, প্রতিষ্ঠাতার অবদান স্মরণে অনুষ্ঠানটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বাংলাদেশের বধির ক্রিকেটের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার: বধির ও প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহমর্মী এক সংগঠক
বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে সভায় বিশেষভাবে আলোকপাত করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোজহিারুল ইসলাম চৌধুরী (এম. আই. চৌধুরী)। তিনি বলেন, সাঈদ এস্কান্দারের জীবন ছিল বহুমাত্রিক। মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক জীবন, রাজনীতি, সমাজসেবা এবং ক্রীড়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। তবে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের কাছে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় পরিচয় ছিল শ্রবণ ও অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সহমর্মী, ধৈর্যশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ একজন মানুষ হিসেবে।
এম. আই. চৌধুরী বলেন, সমাজের অনেক মানুষ যখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতেন না, তখন সাঈদ এস্কান্দার তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনার দিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বিশেষ করে শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণদের ক্রিকেটে সংগঠিত করা, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং মূলধারার ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি তৈরির স্বপ্ন থেকেই বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
তাঁর ভাষায়, সাঈদ এস্কান্দারের স্মরণসভা আয়োজনের উদ্দেশ্য কেবল একজন প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করা নয়; বরং নতুন প্রজন্মের বধির ক্রিকেটারদের সামনে তাঁর মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিহাস তুলে ধরা।
মুক্তিযুদ্ধ থেকে সেনাবাহিনী
সাঈদ এস্কান্দার ১৯৫৩ সালের ১৩ জানুয়ারি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবন থেকেই তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮০ সালে মেজর পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সম্মান জানানো হয়; জানাজার পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছিল এবং বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সামরিক জীবন শেষে রাজনীতি
সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর সাঈদ এস্কান্দার সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ফেনী জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার নির্বাচন কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া ওই আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি জিয়া ফোরাম এবং দেশনেত্রী ফাউন্ডেশনের সঙ্গেও নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও গণমাধ্যম উদ্যোগেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি ড্যান্ডি ডাইং ও ড্যান্ডি ফুড প্রডাক্টসের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক টেলিভিশনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।
প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য তাঁর কাজই বিডিসিএর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়
সভায় এম. আই. চৌধুরী বলেন, সাঈদ এস্কান্দারের রাজনৈতিক বা সামরিক পরিচয়ের বাইরেও বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছে তাঁর একটি আলাদা পরিচয় রয়েছে। সেটি হচ্ছে—প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা এবং সুযোগ তৈরির মানসিকতা।
তিনি বিশ্বাস করতেন, শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা কোনো তরুণের ক্রীড়া প্রতিভার সীমারেখা হতে পারে না। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সংগঠন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সামাজিক স্বীকৃতি পেলে একজন বধির ক্রিকেটারও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
এই দর্শন থেকেই তাঁর নেতৃত্বে বধির ক্রিকেটকে একটি সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
এম. আই. চৌধুরী বলেন,
“মেজর সাঈদ এস্কান্দার শুধু একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেননি; তিনি এমন একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন, যার মধ্য দিয়ে শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণেরা নিজেদের ক্রিকেটার হিসেবে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছেন।”
তাঁর মতে, সাঈদ এস্কান্দারের জীবন ও কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা গেলে তা শুধু একটি ব্যক্তির স্মৃতিকে সংরক্ষণ করবে না; বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, ক্রীড়ায় সমান অংশগ্রহণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কেও একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।
২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রয়াণ
মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকার পর ২০১২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।
দেশে তাঁর মরদেহ আনার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানের আজাদ মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে বনানী সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
সভায় নেতারা বলেন, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ তাই শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়; এটি বাংলাদেশের বধির ক্রিকেটের ইতিহাস, একজন মুক্তিযোদ্ধার মানবিক আদর্শ এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য তাঁর অবদান নতুন করে তুলে ধরার একটি সুযোগ।
বিসিবির শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ
সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সমন্বয় ও সহযোগিতার বিষয়টি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যান এস. এম. আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ। তাঁকে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
আলোচনায় তিনি প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বধির ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ, প্রতিভা অনুসন্ধান এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেন।
বিশেষভাবে আলোচনা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে যোগ্য ও সম্ভাবনাময় বধির ক্রিকেটার চিহ্নিত করে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক ও প্রশিক্ষকদের সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়।
২০ সেপ্টেম্বরের পর নতুন বৈঠকের প্রত্যাশা
সভায় জানানো হয়, আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। সেই বৈঠকে অনুদান, প্রশিক্ষণ, ক্রিকেট উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বিসিবির সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা পাওয়া গেলে দেশের বধির ক্রিকেটারদের জন্য প্রশিক্ষণ, মাঠ, কোচিং, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তুতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নতুন ও বড় কার্যালয়ের সন্ধানে বিডিসিএ
বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যালয় তুলনামূলক ছোট এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
এ কারণে সংগঠনের জন্য অধিকতর উপযোগী, সহজে যাতায়াতযোগ্য এবং পর্যাপ্ত পরিসরসমৃদ্ধ একটি নতুন কার্যালয় খোঁজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব সাধারণ সম্পাদক এম. আই. চৌধুরীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়, ভবিষ্যতে খেলোয়াড় নিবন্ধন, সভা, প্রশিক্ষণ-সমন্বয়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ছোট আকারের কর্মশালা পরিচালনার উপযোগী একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংগঠনের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।
এশিয়ান ডেফ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সন্তোষ
সভায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
এশীয় বধির ক্রিকেটের সাংগঠনিক কাঠামোয় সাধারণ সম্পাদক এম. আই. চৌধুরীর সম্পৃক্ততা ও দায়িত্ব গ্রহণকে সংগঠনের জন্য ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য সভায় তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, এশিয়ান ডেফ ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হলে বাংলাদেশি বধির ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ, প্রশিক্ষণ, টুর্নামেন্ট এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে।
দক্ষিণ এশীয় বধির টি-টোয়েন্টি আয়োজনের স্বপ্ন
সভায় South Asian Deaf T20 Cricket Tournament আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সংগঠনের নেতারা স্মরণ করেন, অতীতে এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। বর্তমানে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে পরিচিত ও সহায়ক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা তৈরি হওয়ায় এ উদ্যোগ নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি।
সভায় আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশের মাটিতে দক্ষিণ এশীয় বধির টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বধির ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শুধু ক্রিকেটীয় অর্জনের ক্ষেত্র তৈরি করবে না; বরং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে Deaf Cricket সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং বধির ব্যক্তিদের সক্ষমতা, প্রতিভা ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবন্ধিতা নয়, সামর্থ্যকে সামনে আনার লক্ষ্য
সভায় বক্তারা বলেন, বধির ক্রিকেটকে কেবল একটি বিশেষ শ্রেণির ক্রীড়া কার্যক্রম হিসেবে না দেখে প্রতিভাভিত্তিক পেশাদার ক্রীড়ার অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তাদের মতে, শ্রবণ প্রতিবন্ধী একজন ক্রিকেটার ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, কৌশল, ফিটনেস ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতায় অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের মতোই উৎকর্ষ অর্জন করতে পারেন। প্রয়োজন কেবল উপযুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, সুযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বধির ক্রিকেটের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বাড়লে সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনেও তা ভূমিকা রাখবে।
প্রিন্টার কেনায় ১৫ হাজার টাকার অনুদান
সংগঠনের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি প্রিন্টার কেনার প্রয়োজনীয়তাও সভায় আলোচিত হয়।
এ সময় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক শুভানুধ্যায়ী ১৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়। এ সহযোগিতার জন্য সভা থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
নেতারা বলেন, সংগঠনের সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ী, ক্রীড়াপ্রেমী এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে একটি অধিকতর শক্তিশালী জাতীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সভায় মত দেওয়া হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে অনেক প্রতিভাবান শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণ ক্রিকেটার থাকলেও তাদের একটি বড় অংশ এখনো সংগঠিত ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত নয়।
তাই নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, খেলোয়াড় নিবন্ধন, জেলা প্রতিনিধিত্ব এবং সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার অনুসন্ধানের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিয়মিত অনুশীলনের দাবি
সভায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বধির ক্রিকেটারদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের সুযোগ সৃষ্টি।
প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ক্যাম্প, ফিটনেস ট্রেনিং, নেট প্র্যাকটিস, ম্যাচ প্র্যাকটিস এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি দেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে।
এ জন্য উপযুক্ত মাঠ, কোচ, প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সরঞ্জাম এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনের নেতারা মনে করেন, বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিবর্তে বছরব্যাপী একটি পরিকল্পিত ক্রিকেট ক্যালেন্ডার তৈরি করা গেলে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
সচেতনতা কার্যক্রমও বাড়াবে সংগঠন
ক্রিকেটের পাশাপাশি বধির ব্যক্তিদের অধিকার, সক্ষমতা এবং ক্রীড়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের কথাও সভায় আলোচিত হয়।
স্কুল, কলেজ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব আসে।
সভায় বলা হয়, বধির ক্রিকেটকে দৃশ্যমান করার অর্থ কেবল কয়েকজন ক্রিকেটারকে খেলার সুযোগ দেওয়া নয়; বরং দেশের বধির জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা।
বাংলাদেশে অবহেলিত শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রিকেট উন্নয়নে প্রস্তাবনা
সভায় বাংলাদেশে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রিকেটচর্চার বর্তমান সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা এবং সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। আলোচনায় বলা হয়, দেশে প্রতিভাবান বহু শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণী থাকলেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠ, কোচিং, প্রতিযোগিতা, আর্থিক সহায়তা, যোগাযোগ-সুবিধা এবং মূলধারার ক্রীড়া কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্তির অভাবে তাদের একটি বড় অংশ প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে বধির ক্রিকেট এখনও সম্ভাবনার তুলনায় অনেকটাই প্রান্তিক অবস্থানে রয়ে গেছে।
সভায় মত দেওয়া হয়, বাংলাদেশে বধির ক্রিকেটকে বিচ্ছিন্ন বা দাতব্যধর্মী কার্যক্রম হিসেবে না দেখে জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত ও স্থায়ী অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা, অবকাঠামো ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবেন।
এ লক্ষ্যে সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়—
- জাতীয় পর্যায়ে বধির ক্রিকেট উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সুস্পষ্ট Deaf Cricket Development Plan প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
- জেলা ও বিভাগভিত্তিক প্রতিভা অন্বেষণ: দেশের প্রতিটি বিভাগ এবং পর্যায়ক্রমে জেলাভিত্তিক Talent Identification Programme পরিচালনা করে সম্ভাবনাময় শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের চিহ্নিত করা যেতে পারে। বিশেষ বিদ্যালয়, একীভূত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় প্রতিবন্ধী সংগঠনকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা জরুরি।
- নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প: শুধু টুর্নামেন্টের আগে স্বল্পমেয়াদি ক্যাম্প নয়, বরং বছরব্যাপী পর্যায়ক্রমিক প্রশিক্ষণ, ফিটনেস, ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এবং ম্যাচ-সিচুয়েশন অনুশীলনের ব্যবস্থা করা দরকার।
- যোগ্য কোচ ও যোগাযোগ-সহায়ক ব্যবস্থা: বধির ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণের জন্য কোচদের Deaf Awareness, মৌলিক Sign Language এবং Visual Communication বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও ম্যাচে পেশাদার Sign Language Interpreter নিয়োগ করতে হবে।
- নির্দিষ্ট মাঠ ও অনুশীলন সুবিধা: ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে নির্ধারিত সময়সূচিতে মাঠ, নেট, জিম এবং অন্যান্য ক্রীড়া অবকাঠামো বিনা খরচে বা ভর্তুকিতে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।
- জাতীয় বধির ক্রিকেট লিগ ও টুর্নামেন্ট: জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত Deaf Cricket League, T20 Championship এবং One-Day Tournament আয়োজনের মাধ্যমে একটি ধারাবাহিক প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
- বয়সভিত্তিক দল গঠন: অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯, যুব এবং সিনিয়র পর্যায়ে পৃথক দল গঠন করলে প্রতিভা ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি খেলোয়াড় উন্নয়ন সম্ভব হবে।
- নারী বধির ক্রিকেটের বিকাশ: শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী ও কিশোরীদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ এখনো অত্যন্ত সীমিত। তাদের জন্য পৃথক Talent Hunt, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে একটি জাতীয় নারী বধির ক্রিকেট দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
- আর্থিক সহায়তা ও খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিল: দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের যাতায়াত, কিট, পুষ্টি, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ এবং আবাসন ব্যয় বহনে একটি স্থায়ী Athlete Support Fund গঠন করার প্রয়োজন রয়েছে।
- শিক্ষা ও ক্রিকেটের সমন্বয়: তরুণ ক্রিকেটাররা যাতে খেলার কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য শিক্ষাবৃত্তি, নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত সহায়তা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা: বিসিবির অধীনে বধির ক্রিকেটের জন্য একটি নির্দিষ্ট সেল, সাব-কমিটি বা ফোকাল পয়েন্ট থাকলে প্রশিক্ষণ, নির্বাচন, আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও এক্সপোজার: ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
- স্পনসরশিপ ও করপোরেট অংশীদারত্ব: ব্যাংক, টেলিকম, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিকে Deaf Cricket-এর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি স্পনসরশিপ ছাড়া একটি পেশাদার ক্রিকেট কাঠামো টেকসই করা কঠিন।
- গণমাধ্যমে দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি: জাতীয় টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার মাধ্যমে বধির ক্রিকেটারদের সাফল্যের গল্প নিয়মিত প্রচার করা প্রয়োজন। এতে সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও আত্মমর্যাদা দুটিই বৃদ্ধি পাবে।
- ডিজিটাল ডাটাবেজ ও খেলোয়াড় নিবন্ধন: দেশব্যাপী বধির ক্রিকেটারদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করে বয়স, জেলা, পজিশন, পারফরম্যান্স, মেডিকেল ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা সংরক্ষণ করলে জাতীয় দল নির্বাচন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও বৈজ্ঞানিক হবে।
- স্বচ্ছ নির্বাচন ও পারফরম্যান্সভিত্তিক দল গঠন: জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও দক্ষতাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ Selection Policy প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা বলেন, বধির ক্রিকেটের উন্নয়নকে অনুদাননির্ভর সহানুভূতির প্রকল্প হিসেবে দেখার সময় শেষ হয়েছে। এটি এখন অধিকার, সমতা, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং জাতীয় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। যথাযথ বিনিয়োগ, নিয়মিত প্রতিযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশের শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটাররা দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে বিশ্বপর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।
তারা আরও মত দেন, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের সাফল্য সমাজে একটি বৃহত্তর বার্তা বহন করবে—প্রতিবন্ধিতা প্রতিভার প্রতিবন্ধক নয়; সুযোগের অভাবই প্রকৃত প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাই সরকার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, করপোরেট খাত, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়।
পরবর্তী সভায় বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সভায় গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরবর্তী কার্যনির্বাহী সভায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী আয়োজন, নতুন অফিস নির্বাচন, বিসিবির সঙ্গে বৈঠক, সম্ভাব্য অনুদান, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট কার্যক্রম, সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং দক্ষিণ এশীয় বধির টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে পরবর্তী সভায় অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের কথা বলা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সংগঠনের ঐক্য, স্বচ্ছতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং বধির ক্রিকেটারদের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বধির ব্যক্তিদের ক্রীড়াক্ষেত্রে সুযোগ নিশ্চিত করা কোনো দয়া বা অনুকম্পার বিষয় নয়; এটি সমঅধিকার, অংশগ্রহণ এবং প্রতিভার ন্যায্য স্বীকৃতির প্রশ্ন। যথাযথ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের বধির ক্রিকেটাররাও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম।
বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এই সভা তাই শুধু একটি নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বধির ক্রিকেটকে জেলা পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পরিসর পর্যন্ত বিস্তৃত করার একটি নতুন কর্মপরিকল্পনার সূচনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
-বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকারপত্র
#BangladeshDeafCricketAssociation #BDCA #DeafCricket #BangladeshCricket #BCB #BangladeshCricketBoard #InclusiveSports #DisabilitySports #DeafSports #CricketForAll #SportsInclusion #InclusiveCricket #HearingImpairedCricket #শ্রবণপ্রতিবন্ধীক্রিকেট #বাংলাদেশডেফক্রিকেটঅ্যাসোসিয়েশন #প্রতিবন্ধীক্রীড়া #একীভূতক্রীড়া #অন্তর্ভুক্তিমূলকক্রীড়া #ক্রিকেটউন্নয়ন #শ্রবণপ্রতিবন্ধী #বধিরক্রিকেট #বাংলাদেশক্রিকেট #বিসিবি #ক্রীড়ায়অন্তর্ভুক্তি #প্রতিবন্ধীব্যক্তিরঅধিকার #সমঅধিকার #ক্রীড়ায়সমতা #SportsForDevelopment #EmpowerThroughSports #CricketDevelopment #DeafCricketBangladesh #SouthAsianDeafCricket #InternationalDeafCricket #DeafCricketAsia #CricketTournament #SportsLeadership #DisabilityInclusion #EqualOpportunity #BreakingBarriers #TalentWithoutBarriers #MajorSayeedIskander #সাঈদএস্কান্দার #মুক্তিযোদ্ধা #SportsLegacy #Odhikarpatra #অধিকারপত্র #TheWayOfRights
BangladeshCricket BDCA Bangladesh Deaf Cricket Association—BDCA বাংলাদেশ ডেফ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বধির ক্রিকেট

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: