অধিকারপত্র ডটকম, অনলাইন ডেক্স :
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের কুতুবদিয়া এলাকায় দুটি বড় জাহাজের সংঘর্ষের সময় মাঝখানে থাকা একটি লাইটার জাহাজ ধাক্কা খেয়েছে। তবে ঘটনায় কোনো হতাহত বা সামুদ্রিক দূষণের খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের কুতুবদিয়া এলাকায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া এলাকায় ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আসা পানামার পতাকাবাহী এপিজে শিরিন জাহাজের পাশে কয়লা খালাসের জন্য একটি লাইটার জাহাজ বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় ব্রাজিল থেকে প্রায় ৫১ হাজার টন সয়াবিনবীজ নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি এইচজি সিডনি নোঙর তুলে গতিপথ পরিবর্তনের সময় এপিজে শিরিনের দিকে এগিয়ে আসে।
একপর্যায়ে এমভি এইচজি সিডনি এপিজে শিরিনে ধাক্কা দেয়। একই সময়ে দুই বড় জাহাজের মাঝখানে থাকা লাইটার জাহাজটিও ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, লাইটার জাহাজটি এপিজে শিরিনের পাশে অবস্থান করছিল। এইচজি সিডনি এগিয়ে আসার পর সেটির পাশের অংশ এপিজে শিরিনে আঘাত করে এবং একই সঙ্গে মাঝখানে থাকা লাইটার জাহাজেও ধাক্কা লাগে।
ধাক্কায় লাইটার জাহাজটির সামনের ওপরের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। তবে ধাক্কার পরপরই লাইটারটি সরে যাওয়ায় দুই বড় জাহাজের মাঝে চাপা পড়া থেকে রক্ষা পায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক শ্রমিককে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘লাইটার শেষ, আল্লাহরে, ইন্না লিল্লাহ।’
এমভি এইচজি সিডনির স্থানীয় প্রতিনিধি লিটমন্ড শিপিংয়ের পরিচালক বেলায়েত হোসেন জানান, সংঘর্ষে লাইটার জাহাজটির সামনের ওপরের অংশ সামান্য বেঁকে গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা সামুদ্রিক দূষণের খবর পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষে জড়িত দুই বিদেশি জাহাজই বর্তমানে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
