অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক
ঢাকা, ৭ অক্টোবর ২০২৬: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মানবাধিকারের সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। জেনেভায় মঙ্গলবার ‘মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মিশনের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে এআই ও মানবাধিকার বিষয়ে এ ধরনের এটিই প্রথম প্রস্তাব। বাংলাদেশের নেতৃত্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, মিসর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপালকে নিয়ে গঠিত মূল দলের সদস্যরা প্রস্তাবটি প্রণয়ন ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কাজ করেছে।
এআই ব্যবহারে মানবাধিকারকে গুরুত্ব
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ভবিষ্যতমুখী ও মানবাধিকারকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।
এতে উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এআইয়ের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকারের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে উদীয়মান প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টিকে প্রস্তাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এআই উন্নয়ন হতে হবে মানবাধিকারসম্মত
খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।
তবে এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে মানবিক মর্যাদা এবং মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে এআই ব্যবহারের কেন্দ্রে রাখতে হবে।
প্রস্তাবে ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
খসড়া প্রণয়নে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের জেনেভা মিশন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রস্তাবটির খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয়।
প্রস্তাবটি গ্রহণের আগে বাংলাদেশ ও এর অংশীদাররা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ এবং আলোচনা চালায়।
এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মতামত ও উদ্বেগকে প্রস্তাবের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
বাংলাদেশের নেতৃত্বে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে এআই ও মানবাধিকারের মধ্যকার পরিবর্তনশীল সম্পর্ক নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশের জেনেভা মিশন।
মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ফলাফল উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জোরদার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগে সমতাভিত্তিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নেতৃত্বে এ প্রস্তাব গ্রহণ প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
