অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজা সিটির রেমাল এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ও আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে রেমাল এলাকার আল-আসালা ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলাটি চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি আল-শায়ের জানান, হামলার আগে যুদ্ধবিমানগুলোর শব্দ ক্রমেই বাড়তে শোনা যায়। এরপর পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে লক্ষ্যবস্তু অ্যাপার্টমেন্টটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় নিচের কয়েকটি তলাতেও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান
হামলার পর ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আল জাজিরার আরেক সাংবাদিক হিন্দ খুদারি গাজা সিটি থেকে জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে আল-হাইদ গোলচত্বর এলাকায় দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে জানা যায়, একটি ভবনকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছিল।
হামলার পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সময়ে ওই এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে এবং যুদ্ধবিমান নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা যায়।
নিহতদের মধ্যে খ্রিস্টান মা ও মেয়ে
হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দুই নারী—মাইসা খাদের ইব্রাহিম আবু দাউদ (আইয়াদ) এবং তার মেয়ে মেরি হাফেজ মিশেল আল-নাজ্জার (আবু দাউদ)—ছিলেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।
শনিবার গাজা সিটির সেন্ট পোরফিরিয়াস চার্চে তাদের জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বজন ও পরিচিতজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতদের স্বজন ফুয়াদ আল-নাজ্জার বলেন, এই ঘটনায় তিনি তার মা ও দাদিকে হারিয়েছেন।
জেরুজালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ক কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিজ্জাবাল্লা নিহতদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের পরিবারের পাশাপাশি গাজার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান।
জেরুজালেমের গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেটও এক বিবৃতিতে নিহত দুই নারীকে স্মরণ করে যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং গাজার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি ন্যায়সংগত শান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
রেমাল গাজা সিটির অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এই এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা, :
