odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th October 2026, ১১th October ২০২৬
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের পরিচয় যাচাইয়ে প্রশাসনিক জটিলতার দাবি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর

চাকরির ভেরিফিকেশনে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অধিকাংশই শিবির: রাশেদ খান

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২১:০৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ October ২০২৬ ২১:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম

চাকরির নিয়োগের ভেরিফিকেশনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে প্রশাসনকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।

স্ট্যাটাসে তিনি আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েমের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

রাশেদ খান লেখেন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যখন তাঁরা মিছিল করেছিলেন, তখন ডাকসুর বর্তমান ভিপি সাদিক কায়েম ছাত্রলীগের হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মিছিল করেছিলেন বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আবরার ফাহাদকে শিবিরের তকমা দিয়ে হত্যা করা হলেও একজন শিবির নেতা ওই কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন পুনরায় শুরু না হলে এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনগণ রাস্তায় না নামলে কিছু ব্যক্তি ছাত্রলীগে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যে গণভবন দখলের পরিকল্পনা নিয়েও অভিযোগ উঠে এসেছে।

চাকরির ভেরিফিকেশনে জটিলতার দাবি

চাকরিতে নিয়োগের আগে পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে রাশেদ খান বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য যাঁদের বিরুদ্ধে পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁর দাবি। ফলে প্রকৃতপক্ষে কে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আর কে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা শনাক্ত করতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাচাইয়ের সময় ভুলভাবে কাউকে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দিলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকৃত কোনো সদস্য নিয়োগ পেয়ে গেলে তা নিয়েও জনমনে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

রাশেদ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো নেতাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁর পক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রকৃত ছাত্রলীগের কর্মী না বলে কৌশলগত কারণে সংগঠনটিতে যুক্ত হয়েছিলেন এবং প্রকৃতপক্ষে শিবিরের লোক—এমন দাবি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন

রাশেদ খানের এই বক্তব্য চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্তকরণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।

তবে তাঁর ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত দাবিগুলোর পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা চাকরির ভেরিফিকেশনের কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভেরিফিকেশনে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিবিরের সদস্য—এমন দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সাদিক কায়েম কিংবা অন্য যাঁদের প্রসঙ্গ এসেছে, তাঁদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে রাশেদ খানের বক্তব্য ও দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

চাকরির ভেরিফিকেশনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত—এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে প্রশাসন জটিলতার মুখে পড়ছে। তবে এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত পরিসংখ্যান বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরির যাচাই কতটা নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর হচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

#রাশেদখান #ছাত্রলীগ #ছাত্রশিবির #চাকরিরভেরিফিকেশন #রাজনীতি #বাংলাদেশরাজনীতি #অধিকারপত্রডটকম